পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৪০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ হরিদয়াল গতিরোধ করিলেন না। চন্দ্রনাথ ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল । গলির শেষে আসিয়া একজনকে জিজ্ঞাসা করিল, কৈলাসগুড়ার বাড়ি কোথায় জান ? সে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া দেখাইয়া দিল। চন্দ্রনাথ একেবারে ভিতরে প্রবেশ করিল। সম্মুখে কাহাকেও দেখিতে পাইল না, শুধু সুন্দর হৃষ্ট-পুষ্ট-দেহ একটি শিশু ঘরের সম্মুখের বারান্দায় বসিয়া একথালা জল লইয়া সৰ্ব্বাঙ্গে মাখিতেছিল এবং মাঝে মাঝে পরম পরিতোষের সহিত দেখিতেছিল, তাহার কচি মুখখানির কালো ছায়া কেমন করিয়া কাপিয়া কাপিয়া তাহার সহিত সহস্তে পরিহাস করিড়েছে। চন্দ্রনাথ তাহাকে একেবারে বুকে তুলিয়া লইয়া ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিল। শিশু বিস্ময় বা ভয়ের চিহ্ন প্রকাশ করিল না। দেখিলে বোধ হয়, অপরিচিত লোকের ক্রোড়ে যাওয়া তাহার কাছে নূতন নহে। সে চন্দ্রনাথের নাকের উপর কচি হাতখানি রাখিয়া মুখপানে চাহিয়া বলিল, তুমি কে ? চন্দ্রনাথ গভীর-স্নহে তাহার মুখচুম্বন করিয়া বলিল, আমি বাবা । বাবা ? ই্য বাবা, তুমি কে ? আমি বিতু ! . চন্দ্রনাথ ঘড়ি-চেন বুক হইতে খুলিয়া লইয়া তাহার গলায় পরাইয়া দিল, পকেট হইতে ছুরি, পেন্সিল, মনিব্যাগ যাহা পাইল, তাহাই পুত্রের হস্তে গু'জিয়া দিল ; হাতের কাছে আর কিছুই খুজিয়া পাইল না, যাহা পুত্র-হস্তে তুলিয়া দেওয়া যায় । বিশু অনেকগুলি দ্রব্য হাতের মধ্যে পাইয়া পুলকিত হইয়া বলিল, বাবা । চন্দ্রনাথ নিঃশব্দে তাহার ছোট মুখখানি নিজের মুখের উপর চাপিয়া ধরিয়া বলিল, বাবা । এই সময় লধীয়ার মা বড় গোল করিল। সে হঠাৎ জানালার ভিতর দিয়া দেখিতে পাইল যে, একজন সাহেব ঘরের ভিতর প্রবেশ করিয়া বিশুকে কোলে গইয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছে। সে নিশ্বাস রুদ্ধ করিয়া একেবারে রান্নাঘরে ছুটিয়া গেল। বাটাতে আজ কৈলাসচন্দ্র নাই, অনেক দিনের পর তিনি বিশ্বেশ্বরের পূজা দিতে গিয়াছিলেন ; সরযুও এই কিছুক্ষণ হইল মন্দির হইতে ফিরিয়া আসিয়া রন্ধন করিতে বসিয়াছিল । লখীয়ার মা সেইখানে চুটিয়া গিয়া হাপাইতে স্থাপাইতে বলিল, মাইজি । কি রে । ঘরের ভেতরে সাহেব ঢুকে বিশুকে কোলে ক’রে ঘুরে বেড়াচ্চে। చిpt