প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৪০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চন্দ্রনাথ সরযু ঠিক বুঝিতে পারিল না। ক্ষণকাল স্বামীর মুখের পানে সন্দিগ্ধ-দৃষ্টি নিবন্ধ রাখিয়া যুদ্ধ-কণ্ঠে বলিল, আমি নূতন বেীর কথা বলচি । তোমার দ্বিতীয় স্ত্রী, তাকে দাওনি কেন ? চন্দ্রনাথ আর নিজেকে সাম্‌লাইতে পারিল না ; সহসা দুই হাত বাড়াইয়া সরঘুর মুখখানি বুকের উপর টানিয়া লইয়া বলিয়া উঠিল, তাকেই দিয়েছি, সরযু তাকেই দিয়েছি। স্ত্রী আমার দু'টি নয়, একটি। কিন্তু সে আমার পুরানো হয় না —চিরদিন নতুন। প্রথম যেদিন তাকে এই কাশী থেকে বিশ্বেশ্বরের প্রসাদী ফুলটির মত বুকে ক’রে নিয়ে যাই সেদিনও যেমন নতুন আজও আবার যখন সেই বিশ্বেশ্বরের পায়ের তলা থেকে কুড়িয়ে নিতে এসেচি এখনও তেমনি নতুন । সন্ধ্যার দীপ জালিয়া ছেলে কোলে লইয়া সরযু স্বামীর পায়ের নিকট বসিয়া বলিল, জ্যাঠামশায়ের সঙ্গে দেখা না ক’রে তোমার যাওয়া হবে না—আজ রাত্তিরে তোমাকে থাকতে হবে। চন্দ্রনাথ বলিল, তাই ভাবচি, আজ বুঝি আর যাওয়া হয় না । সরযু অনেকক্ষণ অবধি একটা কথা কহিতে চাহিতেছিল, কিন্তু লজ্জা করিতেছিল, সময়ও পায় নাই । এখন তাহ বলিল, তোমার কাছে আর লঙ্গ কি—? চন্দ্রনাথ সরযুর মুখের দিকে চাহিয়া চুপ করিয়া রহিল। সরযু বলিল, ভেবেছিলাম, তোমাকে একখানা চিঠি লিখব । লেখনি কেন, আমি ত বারণ করিনি । সরযু একটুখানি ভাবিয়া বলিল, ভয় হ’ত, পাছে তুমি রাগ কর–আবার কবে তুমি আসবে ? যখন আসতে বলবে, তখনি আসব। সরযু একবার মনে করিল, সেই সময় বলিবে, কিন্তু পরক্ষণেই ভাবিয়া দেখিল, মামুষের শরীরে বিশ্বাস নাই। এখন না বলিলে হয় ত বলা হইবে না। চন্দ্রনাথ হয় ত আবার আসিবে, কিন্তু সে হয় ত ততদিনে পুড়িয়া ছাই হইয়া কোথায় উড়িয়া যাইবে। তাই বিবেচনা করিয়া বলিল, তোমার কাছে আমার কোন লঙ্গা নেই। সে কথা ত হয়ে গেল,—আর কিছু বলবে ? সরযু কিছুক্ষণ থামিয়া বলিল, আমার বাঁচতে ইচ্ছে নেই,—এমন ক’রে বেঁচে খাকা অার ভাল দেখাচ্চে না । 8 * > 》郭一4》