প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৪১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ দিন তোমার বাড়িতে গ্রামশুদ্ধ লোকের নিমন্ত্রণ করেছি। তখন দাদা ছিলেন, কাজকৰ্ম্ম সবই তিনি করতেন। আমি কখনও কিছু করতে পাইনি—তাই মনে করছি, বিশুর আবার স্তন ক’রে অন্নপ্রাশন দেব। চন্দ্রনাথ চিন্তা করিল, কিন্তু সমাজ ? মণিশঙ্কর হাসিলেন, বলিলেন, সমাজ আমি, সমাজ তুমি। এ গ্রামে আর কেউ নেই ; যার অর্থ আছে, সেই সমাজপতি । আমি ইচ্ছা করলে তোমার জাত মাৰ্বতে পারি, আর তুমি ইচ্ছা করলে আমার জাত মারতে পার। সমাজের জন্ত ভেব না। আর একটা কথা বলি—এতদিন তা বলিনি, বোধ হয় কখনও বলতাম না, কিন্তু ভাবচি, তোমার কাছে একথা প্রকাশ করলে কোন ক্ষতি হবে না। তোমার রাখাল ভট্টচাষের কথা মনে হয় ? হয়। হরিদয়াল ঠাকুরের পত্রে পড়েছিলাম । আমার পরিবারের যদি কিছু লজ্জার কথা থাকে শুধু সেই প্রমাণ করতে পারত, কিন্তু সে আর কোন কথা প্রকাশ করবে না, আমি তাকে জেলে দিয়েছি। কিছুদিন হ’ল সে খালাস হয়ে কোথায় চলে গেছে ; আর কখনও এ দেশে পা বাড়াবে না। মণিশঙ্কর তখন আপুব্বিক সমস্ত কথা বিবৃত করিলেন। সে সকল কাহিনী শুনিয়া চন্দ্রনাথের দুই চক্ষু বাষ্পাকুল হইয়া উঠিল। তাহার পর পূর্ণিমার দিন খাওয়ানেী-দাওয়ানো শেষ হইল। গ্রামের কেহই কোন কথা কহিল না। তাহারা মণিশঙ্করের ব্যবহার দেখিয়া বিশ্বাস করিল যে, একটা মিথ্যা অপবাদ রটনা হইয়াছিল,—হয় ত সে একটা জমিদারী চাল মাত্র ! হরকালী আলাদা রাধিয়া খাইলেন,—র্তাহার এ গ্রামে আর বাস করিবেন না—বাড়ি যাইবেন । হরকালী বলিলেন, প্রাণ যায় সেও স্বীকার, কিন্তু ধৰ্ম্মটাকে তিনি কিছুতেই ছাড়িতে পারিবেন না। ইহা মুখের কথাই হউক আর দুঃখের কথাই হউক, চন্দ্রনাথ তাহাদের পঞ্চাশ টাকার পরিবর্তে মাসিক একশত টাকা বরাদ্ধ করিয়া দিয়াছে। 豪 উৎসবের শেষে অনেক রাত্রে নাচ-গান বন্ধ হইলে ঘরে আসিয়া চন্দ্রনাথ দেখিল সৰ্ব্ব-অলঙ্কার ভূষিত রাজ-রাজেশ্বরীর মত নিদ্রিত পুত্র ক্রোড়ে লইয়া সরযু স্বামীর জন্ত অপেক্ষা করিয়া নিশি জাগিয়া বসিয়া আছে। 疇 আজ পূর্ণিমা। চন্দ্রনাথ বলিল, ইস। সরযু মৃদ্ধ হাসিয়া বলিল, সই আজ কিছুতেই ছাড়লেন না। ళిety 事 暑