পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্ত আমি কি তেমনি বোকা! বলিয়া ইন্দ্র সপ্রতিভ হাসিমুখে ফসূ করিয়া তাহার কোচার কাপড়ট টানিয়া ফেলিয়া কোমরে মুত-বাধা কি একটা শুকৃনা শিকড় দেখাইয়া বলিল, এই দ্যাখো দিদি, আট-ঘাট বেঁধে রেখেচি কি না । এ না থাকলে কি আর আজ আমাকে না ছুবলে ছেড়ে দিত । শাহজীর কাছে এটুকু আদায় করতে কি আমাকে কম কষ্ট পেতে হয়েছে ? এ সঙ্গে থাকলে কেউ ত কামড়াতে পারেই না ; আর তাই যদি না কামড়াত—তাতেই বা কি ! শাহ জীকে টেনে তুলে তক্ষুনি বিষ-পাথরটা ধরিয়ে দিতুম । আচ্ছা দিদি, ঐ বিষপাথরটায় কতক্ষণে বিষ টেনে নিতে পারে ? অাধ ঘণ্টা ? এক ঘণ্টা ? না, অতক্ষণ লাগে না, না দিদি ? দিদি কিন্তু তেমনি নীরবে চাহিয়া রছিলেন। ইন্দ্র উত্তেজিত হইয়া উঠিয়াছিল, বলিল, আজ দাও না দিদি আমাকে একটি। তোমাদের ত দুটো-তিনটে রয়েচে —আর আমি কতদিন ধ’রে চাইচি ৷ বলিয়া সে উত্তরের জন্য প্রতীক্ষামাত্র নী করিয়া ক্ষুঃ অভিমানের সুরে তৎক্ষণাৎ বলিয়া উঠিল, আমাকে তোমরা যা বল অামি তাই করি—আর তোমরা কেবল পট্রি দিয়ে আমাকে আজ নয়, কাল, কাল নয় পরশু—যদি নাই দেবে তবে ব’লে দাও না কেন ? আমি আর আসব না— शृ[७ ।। ইন্দ্র লক্ষ্য করিল না, কিন্তু আমি তাহার দিদির মুখের পানে চাহিয়া বেশ অনুভব করিলাম যে, তার মুখখানি কিসের অপরিসীম ব্যথায় ও লজ্জায় যেন একেবারে কালিবর্ণ হইয়া গেল ! কিন্তু পরক্ষণেই জোর করিয়া একটুখানি হাসির ভাব সেই শীর্ণ শুষ্ক ওষ্ঠাধরে টানিয়া জানিয়া কহিলেন, ই রে ইন্দ্র, তুই কি তোর দিদির বাড়িতে শুধু সাপের মস্তর আর বিষ-পাথরের জন্তেই আসিস রে ? ইন্দ্র অসঙ্কোচে বলিয়া বসিল, তা না ত কি ! নিত্রিত শাহ জীকে একবার আড়চোথে চাহিয়া দেখিয়া কহিল, কিন্তু ও কেবলই আমাকে ভোগ দিচ্চে—এ তিথি নয়, ও তিথি নয়, সে তিথি নয়, সেই ষে কবে শুধু হাতচালার মস্তুরটুকু দিয়েছিল আর দিতেই চায় না। কিন্তু আজ আমি টের পেয়েছি দিদি, তুমিও কম নয়, তুমিও সব জানো। ওকে আর খোসামোদ করচিনে দিদি, তোমার কাছ থেকেই সমস্ত মস্তর আদায় ক’রে নেবো । বলিয়াই আমার প্রতি চাহিয়া, সহসা একটা নিশ্বাস ফেলিয়া, শাহ জীকে উদ্দেশ করিয়া গভীর সন্ত্রমের সহিত কহিল, শাহ জী গাজ-টাজ খান বটে, শ্ৰীকাস্ত, কিন্তু তিন দিনের বাসী মড়া আধঘণ্টার মধ্যে দাড় করিয়ে দিতে পারেন—এত বড় ওস্তাদ উনি ! ই দিদি, তুমিও মড়া বাঁচাতে পারো ? 8? به س-)R<