প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐীকান্ত কি ভাই ! তোমরা যে ভদ্রলোকের ছেলে। যারা ইতর, তারাই শুধু অজানা অচেনা লোকের কথায় সন্দেহে ভয়ে পিছিয়ে দাড়ায় । তা ছাড়া আমি ত কখনও fমধ্যে কথা কইনে ভাই ! বলিয়া তিনি আর একবার আমার প্রতি চাহিয়া মানভাবে একটুখানি হাসিলেন। তখন সন্ধ্যার ঝান্স কাটিয়া গিয়; আকাশে চাদ উঠিয়াছিল এবং তাহারই অস্ফুট কিরণরেখা গাছের ঘনবিন্যস্ত ডাল ও পাতার ফাক দিয়া নীচের গাঢ় অন্ধকারে ঝরিয়া পড়িতেছিল । কয়েক মুহূৰ্ত্ত নীরব থাকিয়া, দিদি হঠাৎ বলিয়া উঠিলেন, ইন্দ্রনাথ, মনে করেছিলুম, আজই আমার সমস্ত কথা তোমাদের জানিয়ে দেব ! কিন্তু ভেবে দেখছি, এখনও সে সময় আসেনি। আমার এই কথাটুকু আজ শুধু বিশ্বাস করে. ভাই, আমাদের আগা-গোড়া সমস্তই ফাকি । আর তুমি মিথ্যে আশা নিয়ে শাহ জীর পিছনে পিছনে ঘুরে বেড়িয়ে না। আমরা তন্ত্রমন্ত্র কিছুই জানিনে, মড়াও বাচাতে পারিনে ; কড়ি চেলে সাপ ধরে আনতেও পারিনে। আর কেউ পারে কি না জানিনে, কিন্তু আমাদের কোন ক্ষমতাই নেই। কি জানি কেন আমি এই অত্যন্ত্র কালের পরিচয়েই র্তাহার প্রত্যেক কথাটি অসংশয়ে বিশ্বাস করিলাম ; কিন্তু এতদিনের ঘনিষ্ঠ পরিচয়েও ইন্দ্র পারিল না। সে ক্রুদ্ধ হইয়া কহিল, যদি পার না, তবে সাপ ধরলে কি ক’রে ? দিদি বলিলেন, ওটা শুধু হাতের কৌশল ইন্দ্র, কোন মস্ত্রের জোরে নয় । সাপের মন্ত্র আমরা জানিনে । - ইন্দ্র বলিল, যদি জান না, তবে তোমরা দুজনে জুরি করে ঠকিয়ে আমার কাছ থেকে এত টাকা নিয়েচ কেন ? দিদি তৎক্ষণাৎ জবাব দিতে পারিল না ; বোধ করি বা নিজেকে একটুখানি সামলাইয়া লইতে লাগিলেন। ইন্দ্র পুনরায় কর্কশকণ্ঠে কহিল, ঠগ জোচ্চোর সব— আচ্ছা, আমি দেখাচ্ছি তোমাদের মঙ্গণ ৷ অদূরেই একটা কোরোসিনের ডিৰ জলিতেছিল। আমি তাহারই আলোকে দেখিতে পাইলাম, দিদির মুখখানি একেবারে যেন মড়ার মত সাদা হইয়া গেল। সভয়ে সসঙ্কোচে বলিলেন, আমরা ষে সাপুড়ে, ভাই, ঠকানোই যে আমাদের ব্যবসা । ব্যবসা বার ক’রে দিচ্চি—চল্‌রে শ্রীকান্ত, জোচ্চোর শালাদের ছায়া মাড়াতে নেই। হারামজাদা বজাত ব্যাটারা। বলিয়া ইন্দ্র সহসা আমার হাত ধরিয়া সজোরে একটা টান দিয়া খাড়া হইয়া উঠিল, এবং মুহূৰ্ত্ত বিলম্ব না করিয়া আমাকে টানিয়া লইয়৷ চলিল । HE