পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ইন্দ্রকে দোষ দিতে পারি না, কারণ তাহার অনেক দিনের অনেক বড় আশা একেবারে চোখের পলকে ভূমিসাৎ হইয়া গেল, কিন্তু আমার দুই চোখ যে দিদির সেই দুটি চোখের পানে চাহিয়া আর চোখ ফিরাইতে পারিল না। জোর করিয়া ইন্দ্রের হাত ছাড়াইয়া লইয়া পাচটি টাকা রাখিয়া দিয়া বলিলাম, তোমার জন্যে এনেছিলাম দিদি– এই নাও । ইন্দ্র ছে৷ মারিয়া তুলিয়া লইয়া কহিল, আবার টাকা! জুচ্ছরি করে এরা আমার কাছে কত টাকা নিয়েচে, তা তুই জানিস শ্ৰীকান্ত ? এরা না খেয়ে শুকিয়ে মরুক, সেই আমি চাই । আমি তাহার হাত চাপিয়া ধরিয়া বলিলাম, না ইন্দ্র দাও,—আমি দিদির নাম ক’রে এনেচি— ওঃ–ভারি দিদি ! বলিয়া সে আমাকে টানিয়া বেড়ার কাছে আনিয়া ফেলিল । এতক্ষণে গোলমালে শাহ জাঁর নেশার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল। সে, কেয়া হুয়া, কেয়া হুয়া ? বলিয়া উঠিয়া বসিল । ইন্দ্র আমাকে ছাড়িয়া দিয়া তাহার কাছে সরিয়া আসিয়া বলিল, ডাকু শালা ! রাস্তায় তোমাকে দেখতে পেলে চাবকে তোমার পিঠের চামড়া তুলে দেব। কেয়া হুয়া ! বদ্‌মাস ব্যাটা কিছু জানে ন!—আর বলে বেড়ায় মস্তরের জোরে মড়া বঁাচাই ! কখনো পণে দেখা হ’লে এবার ভাল ক'রে বাচাব তোমাকে ! বলিয়া সে এমনি একটা অশিষ্ট ইঙ্গিত করিল যে শাহ জী চমকাইয়া উঠিল । তাহার একে নেশার ঘোর, তাহাতে অকস্মাৎ এই অভাবনীয় কাও ! সেই যে সাধুভাষায় বলে ‘কিংকৰ্ত্তব্যবিমূঢ় হইয়া বসিয়া থাকা, সেইভাবে ফ্যালফ্যাল করিয়া চাহিয়া বসিয়া রহিল । ইন্দ্র আমাকে লইয়া যখন দ্বারের বাহিরে আসিয়া পড়িল, তখন সে বোধ করি কতকটা প্রকৃতিস্থ হইয়া পরিষ্কার করিয়া ডাকিল, শোন ইন্দ্রনাথ, কি হয়েচে বল ত ? আমি তাহাকে এই প্রথম বাঙলা বলিতে শুনিলাম । ইন্দ্র ফিরিয়া আসিয়া বলিল, তুমি কিছু জান না—কেন মিছামিছি আমাকে ধোকা দিয়ে এত দিন এত টাকা নিয়েচ, তার জবাব দাও। সে কহিল, জানিনে, তোমাকে কে বললে ? ইন্দ্র তৎক্ষণাৎ ঐ স্তব্ধ নতমূখী দিদির দিকে একট। হাত বাড়াইয়া বলিল, ওই বললে, তোমার কানাকড়ির বিস্তে নেই। বিদ্যে আছে শুধু জোচ্চ রি করবার আর লোক ঠকাবার। এই তোমাদের ব্যবসা। মিথ্যাবাদী, চোর।