প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রীকান্ত পারিয়াছিলাম, ‘বড়’ ও ‘ছোট’র বন্ধুত্ব সচরাচর এমনিই দাড়ায়। বোধ করি ভাগ্যবশে পরবর্তী জীবনে অনেক বড়’ বন্ধুর সংস্পর্শে আসিব বলিয়াই ভগবান দয়া করিয়া এই সহজ জ্ঞানটা আমাকে ধিয়াছিলেন যে, কখনও কোন কারণেই ষেন অবস্থাকে ছাড়াইয়া বন্ধুত্বের মূল্য ধাৰ্য্য করিতে না যাই । গেলেই ষে দেখিতে দেখিতে ‘বন্ধু’ প্রভু হইয়া দাড়ান এবং সাধের বন্ধুত্বপাশ দাসত্বের বেড়ি হইয়া "ছোট'র পায়ে বাজে, এই দিব্যজ্ঞানটি এত সহজে এমন সত্য করিরাই শিখিয়াছিলাম বলিয়া লাঞ্ছনার হাত হইতে চিরদিনের মত নিস্কৃতি পাইয়া বাচিয়াছি । তিন-চারিমাস কাটিয়াছে। উভয়েই উভয়কে ত্যাগ করিয়াছি--তা বেদনা এক পক্ষেব যত নিদারুণই হোকৃ—কেহ কাহারও খোজ করি না। দত্তদের বাড়িতে কালীপূজা উপলক্ষে পাড়ার সখের থিয়েটারের স্টেজ বাধা হইতেছে। ‘মেঘনাদবধ হইবে । ইতিপূৰ্ব্বে পাড়াগায়ে যাত্রা অনেকবার দেখিয়াছি, কিন্তু থিয়েটার বেশী চোধে দেখি নাই। সারাদিন আমার নাওয়া-ধাওয়াও নাই, বিশ্রামও নাই । স্টেজ বাধায়ু সাহায্য করিতে পাঞ্জিয়৷ একেবারে কৃতাৰ্থ হইয়া গিয়াছি । তাই নয়। যিনি রাম সাজিবেন, স্বয়ং তিনি সেদিন আমাকে একটা দড়ি ধরিতে বলিয়াছিলেন । সুতরাং ভারী আশা করিয়াছিলাম, রাত্রে ছেলেরা যখন কানাতের ছেড়া দিয়া গ্রীনক্লমের মধ্যে উকি মারিতে গিয়া লাঠির খোচা খাইবে, আমি তথন শ্রীরামের কৃপায় বাচিয়া যাইব । হয়ত বা আমাকে দেখিলে এক-আধবার ভিতরে যাইতেও দিবেন। কিন্তু হায় রে দুর্ভাগ্য ! সমস্ত দিন যে প্রাণপাত পরিশ্রম করিলাম, সন্ধ্যার পর আর তাহার কোন পুরস্কারই পাইলাম না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্রীনক্লমের দ্বারের সন্নিকটে দাড়াইয়া রহিলাম। রামচন্দ্র কতবার অাগিলেন, গেলেন, আমাকে কিন্তু চিলিতে পারিলেন না। একবার জিজ্ঞাসাও করিলেন না, আমি অমন করিয়া দাড়াইয়া কেন ? অকৃতজ্ঞ রাম ! দড়ি-ধরার প্রয়োজনও কি তাহার একেবারেই শেষ হইয়া গেছে ! রাত্রি দশটার পর থিয়েটারের পয়লা 'বেল’ হইয়া গেলে নিতান্ত ক্ষুন্নমনে সমস্ত ব্যাপারটার উপরেই হতশ্রদ্ধ হইয়। মুমুখে আসিয়া একটা জায়গা দখল করিয়া বসিলাম। কিন্তু অল্পকালের মধ্যেই সমস্ত অভিমান ভুলিয়া গেলাম। সে কি প্লে ! জীবনে অনেক প্লে দেখিয়াছি বটে, কিন্তু তেমনটি আর দেখিলাম না। মেঘনাস্বয়ং এক বিপৰ্য্যয় কাও ! তাহার ছয়-সাত হাত উচু দেহ। পেটের ঘেরটা চার-সাড়েচার হাত ।. সবাই বলিত, মরিলে গরুর গাড়ি ছাড়া উপায় নাই। অনেক দিনের কথা। আমার সমস্ত ঘটনা মনে নাই। কিন্তু এটা মনে আছে, তিনি সেদিম যে বিক্রম প্রকাশ করিয়াছিলেন, আমাদের দেশের হারাণ পললাই ভীম সাজিয়া মস্ত ●>