প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্তু দিদি বলিলেন, ই, বামুনের মেয়ে। তিনিও ব্রাহ্মণ ছিলেন। ইন্দ্র ক্ষণকাল অবাক্ হইয়া থাকিয়া কহিল, জাত দিলেন কেন ? দিদি বলিলেন, সে কথা ঠিক জানিনে ভাই । কিন্তু তিনি যখন দিলেন, তখন আমারও সেই সঙ্গে জাত গেল। স্ত্রী সহধর্মিণী বৈ ত নয়। নইলে আমি নিজে হ’তে জাতও দিইনি—কোন দিন কোন অনাচারও করিনি । ইন্দ্র গাঢ়ম্বরে কহিল, সে আমি দেখেচি দিদি-সেই জন্যেই আমার যখন-তখন এই কথাই মনে হয়েচে —আমাকে মাপ করে দিদি, তুমি কি ক’রে এর মধ্যে আছ — তোমার কেমন ক’রে এমন দুৰ্ম্মতি হয়েছিল ! কিন্তু এখন আমি কোন কথা শুনব না, আমাদের বাড়িতে তোমাকে যেতেই হবে । এখনি চল । দিদি অনেকক্ষণ পৰ্য্যস্ত নীরবে কি যেন চিন্তা করিয়া লইলেন, পরে মুখ তুলিয়া ধীরে ধীরে বললেন, এখন আমি কোথাও যেতে পারিনে ইন্দ্রনাথ । কেন পার না দিদি ? দিদি বলিলেন, আমি জানি, তিনি কিছু কিছু দেনা রেখে গেছেন। সেগুলি শোধ না দেওয়া পৰ্য্যস্ত ত কোথাও নড়তে পারিনে । ইন্দ্র হঠাৎ ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিল –সে আমিও জানি ! তাড়ির দোকানে, গাজার দোকানে তার দেন ; কিন্তু তোমার তীতে কি ? কার সাধ্যি তোমার কাছে টাকা চাইতে পারে ? তুমি চল আমার সঙ্গে, কে তোমাকে আটকায় দেখি একবার। অত দুঃখেও দিদি একটুখানি হাসিলেন । বলিলেন, ওরে পাগলা, যে আমাকে আটক ক’রে রাখবে, সে যে আমার নিজেরই ধৰ্ম্ম স্বামীর ঋণ যে আমার নিজেরই ঋণ । সে পাওনাদারকে তুমি কি ক’রে বাধা দেবে ভাই ! তা হয় না, আজ তোমরা বাড়ি যাও—আমার আল্প-সল্প যা কিছু অাছে বিক্ৰী ক'রে ধার শোধ দেবার চেষ্টা করি। কাল-পরশু একদিন এসে । আমি এতক্ষণ প্রায় চুপ করিয়াই ছিলাম। এইবার কথা কহিলাম। বলিলাম, দিদি, আমার কাছে বাড়িতে আরও চার-পাচটা টাকা আছে—নিয়ে আসব ? কথাটা শেষ না হইতেই তিনি উঠিয়া দাড়াইয়। আমাকে ছোট ছেলেটির মত একেবারে বুকের কাছে টানিয়া লইয়া, আমার কপালের উপর তাহার ওষ্ঠাধর স্পর্শ করিয়া মুখের পানে চাহিয়া বলিলেন, ন দাদা, আর এনে কাজ নেই! তুমি সেই যে টাকা পাচটি রেখে গিয়েছিলে, তোমার সে দয়া আমি মরণ পৰ্য্যন্ত মনে রাখব ভাই । আশীৰ্ব্বাদ ক’রে ধাই, তোমার বুকের ভিতরে বসে ভগবান চিরদিন যেন অমনি ক’রে দুঃখীর জন্যে চোখের জল ফেলেন। বলিতে বলিতেই তাহার ছ’চোখ দিয়া ঝরঝর করিয়া জল ঝরিয়া পড়িতে লাগিল । తి