প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্ত ছিল, প্রকস্তি, যাইবার সময় আমি তোমাদের আশীৰ্ব্বাদ করিতেছি। শুধু জাজ নয়, যতদিন বাচিব ততদিন তোমাদের আশীৰ্ব্বাদ করিব । কিন্তু আমার জন্য তোমরা দুঃখ করিয়ো না ! ইন্দ্রনাথ আমাকে ধুজিয়া বেড়াইবে, লে জানি । কিন্তু তুমি তাহাকে বুঝাইয়া-মুঙ্গাইয়া নিরস্ত করিয়ো। আমার সমস্ত কথা যে আজই তোমরা বুঝিতে পারিবে, তাহা নয় ; কিন্তু বড় ইইলে একদিন বুঝিবে সেই আশায় এই পত্র লিখিয়া গেলাম। কিন্তু নিজের কথা নিজের মুখেই ত তোমাদের কাছে বলিয়া যাইতে পারিতাম ! অথচ কেন যে বলি নাই—বলি-বলি করিয়াও কেম চুপ করিয়া গিয়াছি, সেই কথাটাই আজ না বলিতে পারিলে আর বলা হইবে না। আমার কথা শুধু আমারই কথা নয় ভাই, সে আমার স্বামীর কথা। আবার তাও ভাল কথা—নয় । এ জন্মের পাপ ষে আমার কত, তাহ ঠিক জানি না ; কিন্তু পূৰ্ব্বজন্মের সঞ্চিত পাপের যে আমার সীমা-পরিসীমা নাই, তাহাতে ত কোন সংশয় নাই । তাই যখনই বলিতে চাহিয়াছি, তখনই মনে হুইয়াছে, স্ত্রী হইয়া নিজের মুখে স্বামীর নিন্দা-গ্লানি করিয়া সে পাপের বোঝ। আর ভারাক্রাস্ত করিব না। কিন্তু এখন তিনি পরলোকে গিয়াছেন। আর গিয়াছেন বলিয়াই যে বলিতে আর ঘোষ নাই, সে মনে করি না । অথচ কেন জানি না আমার এই অস্তবিহীন দুঃখের কথাগুলো তোমাদের না জানাইয়াও কোন মতেই বিদায় লইতে পারিতেছি না। শ্রীকান্ত, তোমার এই দুঃখিনী দিদির নাম অন্নদা। স্বামীর নাম কেন গোপন করিয়া গেলাম, তাহার কারণ–এই লেখাটুকুর শেষ পর্য্যন্ত পড়িলেই বুঝিতে পারিবে । আমার বাবা বড়লোক। র্তার ছেলে ছিল না । আমরা দুটি বোন। সেজন্য বাবা দরিত্রের গৃহ হইতে স্বামীকে আনাইয়া নিজের কাছে রাখিয়া লেখাপড়া শিখাইয়া মানুষ করিতে চাহিয়াছিলেন। তাহাকে লেখাপড়া শিখাইতে পারিয়াছিলেনকিন্তু মানুষ করিতে পারেন নাই। আমার বড় বোন বিধবা হইয়া বাড়িতেই ছিলেন-ইহাকেই হত্যা করিয়া স্বামী নিরুদেশ হন। এ দুষ্কর্ম কেন করিয়াছিলেন, তাহার হেতু তুমি ছেলেমানুষ—আজ না বুঝিতে পারিলেও একদিন বুঝিবে। সে যাই হোক, বল ত শ্ৰীকান্ত, এ দুঃখ কত বড় ? এ লজ্জা কি মৰ্ম্মাস্তিক । তবু তোমার দিদি সব সহিয়াছিল। কিন্তু স্বামী হইয়া যে অপমানের আগুন তিনি র্তার স্ত্রীর বুকের মধ্যে জালিয়া দিয়া গিয়াছিলেন, সে জালা আজও তোমার দিদির থামে নাই। ষাকৃ সে কথা ! তার পরে সাত বৎসর পরে আবার দেখা পাই। যেমন বেশে তোমরা তাকে দেখিয়াছিলে, তেমনি বেশে আমাদেরই বাটীর সন্মুখে তিনি সাপ খেলাইতেছিলেন। তাকে আর কেহ চিনিতে পারে নাই, কিন্তু জামি পারিয়াছিলাম। আমার চক্ষুকে তিনি ফাকি দিতে পারেন নাই। to: