প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐশ্ৰীক্ৰণভ প্রথম পৰ্ব্ব S আমার এই ভবঘুরে জীবনের অপরাহ্ল বেলায় দাড়াইয়া ইহারই একটা অধ্যায় বলিতে বসিয়া আজ কত কথাই না মনে পড়িতেছে ! ছেলেবেলা হইতে এমনি করিয়াই ত বুড়া হইলাম। আত্মীয় অনাত্মীয় সকলের মুখে শুধু একটা একটানা ছি-ছি শুনিয়া শুনিয়া নিজেও নিজের জীবনটাকে একটা মস্ত ছি-ছি-ছি’ ছাড়া আর কিছুই ভাবিতে পারি নাই। কিন্তু কি করিয়া যে জীবনের প্রভাতেই এই মুদীর্ঘ ‘ছিছি'র ভূমিকা চিহ্নিত হইয়া গিয়াছিল বহুকালাস্তরে আজ সেই সব স্মৃত ও বিস্মৃত কাহিনীর মালা গাথিতে বসিয়া যেন হঠাৎ সন্দেহ হইতেছে, এই ‘ছি-ছি’টা যত বড় করিয়া সবাই দেখাইয়াছে, হয়ত ঠিক তত বড়ই ছিল না। মনে হইতেছে, হয়ত ভগবান যাহাকে তাহার বিচিত্রস্বষ্টির ঠিক মাঝখানটিতে টান দেন, তাহাকে ভালছেলে হুইয়া একজামিন পাশ করিবার সুবিধাও দেন না, গাড়ি-পালকি চড়িয়া বহু লোক-লস্কর সমভিব্যাহারে ভ্রমণ করিয়া তাহাকে 'কাহিনী’ নাম দিয়া ছাপাইবার অভিরুচিও দেন না ? বুদ্ধি হয়ত তাহাকে কিছু দেন, কিন্তু বিষয়ী-লোকেরা তাহাকে মুবুদ্ধি বলে না। তাই প্রবৃত্তি তাহাদের এমৃনি অসঙ্গত, খাপছাড়া—এবং দেখিবার বস্তু ও তৃষ্ণাট স্বভাবতঃই এতই বেম্বাড়া হইয়া উঠে যে, তাহার বর্ণনা করিতে গেলে সুধী ব্যক্তিরা বোধ করি হাসিয়াই খুন হইবেন । তারপরে সেই মন্দ ছেলেটি যে কেমন করিয়া অনাদরে অবহেলায় মন্ধের আকর্ষণে মন্দ হইয়া, ধাক্কা খাইয়া, ঠোক্কর খাইয়া অজ্ঞাতসারে অবশেষে একদিন অপযশের ঝুলি কঁধে ফেলিয়া কোথায় সরিয়া পড়ে—মুদীর্ঘ দিন আর তাহার কোন উদ্দেশই পাওয়া যায় না। অতএব এ সকলও থাক। যাহা বলিতে বসিয়াছি, তাহাই বলি। কিন্তু বলিলেই ত বলা হয় না। ভ্রমণ করা এক, তাহা প্রকাশ করা আর । যাহার পা-দুটা আছে, সেই ভ্রমণ করিতে পারে ; কিন্তু হাত-ভুটা থাকিলেই ত আর লেখা ষায় না । সে ষে তারি শক্ত। তা ছাড়া মস্ত মুস্কিল হইয়াছে আমার এই ষে, $