প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৭৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ পিয়ারী কহিল, করলে সে ত আমার সৌভাগ্য ঠাকুর । এ কি আর একটা আপলোসের কথা ? উত্তর না দিয়া যখন আমি স্বারের কাছে আসিয়া পড়িয়াছি, তখন সে অকস্মাৎ হাসির লহর তুলিয়া বলিয়া উঠিল, কিন্তু দেখো ভাই, আমার সেই চোখের জলের গল্পটা যেন ভুলে যেয়ো না । বন্ধু-মহলে, কুমারসাহেবের দরবারে প্রকাশ করলে –চাই কি তোমার নসিবটাই হয়ত ফিরে যেতে পারে। আমি নিরুত্তরে বাহির হইয়া পড়িলাম। কিন্তু এই নির্লজ্জার হাসি এবং কাৰ্য্য পরিহাসে•আমার সর্বাঙ্গ যেন বিছার কামড়ের মত জলিতে লাগিল । স্বস্থানে আসিয়া এক পেয়াল চা খাইয়া চুরুট ধরাইয়া মাথা যথাসম্ভব ঠাও। করিয়া ভাবিতে লাগিলাম—কে এ ? আমার পাঁচবছর বয়সের ঘটনা পৰ্য্যন্ত আমি স্পষ্ট মনে করিতে পারি। কিন্তু অতীতের মধ্যে যতদূর দৃষ্টি যায়, ততদূর পর্যন্ত তন্ন তন্ন করিয়া দেখিলাম, কোথাও এই পিয়ারীকে খুজিয়া পাইলাম না। অথচ এ আমাকে বেশ চিনে। পিসীমার কথা পৰ্য্যন্ত জানে। আমি ষে দরিদ্র ইহাও তাহার অবিদিত নহে । সুতরাং আর কোন অভিসন্ধি থাকিতেই পারে না। অথচ যেমন করিয়া পারে, আমাকে সে এখান হইতে তাড়াইতে চায় । কিন্তু কিসের জন্য ? আমার থাকা-না-থাকায় ইহার কি ? তখন কথায় কথায় বলিয়াছিল, সংসারে লাভ-ক্ষতিই কি সমস্ত ? ভালবাসাটাস কিছু নাই ? আমি যাহাকে কখনো । চোখেও দেখি নাই, তাহার মূখের এই কথাটা মনে করিয়া আমার হাসি পাইল । কিন্তু সমস্ত কথাবাৰ্ত্ত ছাপাইয়। তাহার শেষ বিদ্রপটাও আমাকে যেন অবিশ্রাস্ত মৰ্ম্মাস্তিক করিয়া বিধিতে লাগিল । সন্ধ্যার সময় শিকারীর দল ফিরিয়া আসিল । চাকরের মূখে শুনিলাম আটটা ঘুঘুপাখি মারিয়া আনা হইয়াছে। কুমার ডাকিয়া পাঠাইলেন ; অসুস্থতার ছুতা করিয়া বিছানায় পড়িয়াই রহিলাম ; এবং এইভাবেই অনেক রাত্রি পর্য্যস্ত পিয়ারীর গান এবং মাতালের বাহবা শুনিতে পাইলাম । তার পরের তিন-চারিদিন প্রায় একভাবেই কাটিয়া গেল। ‘প্রায়’ বলিলাম— কারণ, এক শিকার করা ছাড়া আর সমস্তই একপ্রকার। পিয়ারীর অভিশাপ ফলিল না কি, প্রাণিহত্যার প্রতি আর কাহারো কোন উৎসাহই দেখিলাম ন। কেহ তাবুর বাহির হইতেই যেন চাহে না । অথচ আমাকেও ছাড়িয়া দেয় না। আমার পলাইবার আর যে কোন বিশেষ কারণ ছিল তাহা নয় । কিন্তু এই বাইঞ্জীর প্রতি আমার কি যে ঘোর বিতৃষ্ণ জন্মিয়া গেল ; সে হাজির হইলেই, আমাকে কিসে যেন মারিতে থাকত ; উঠিয়া গিয়া স্বস্তি १३