প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রীকান্ত পাইতাম । উঠিতে না পারিলে, অন্ততঃ আর কোনদিকে মুখ ফিরাইয়া, কাহারও সহিত কথাবাৰ্ত্ত কহিয়া, অন্যমনস্ক হইবার চেষ্টা করিতাম। অথচ সে প্রতি মুহূৰ্ত্তেই আমার সহিত চোখাচোথি করিবার সহস্ৰ কৌশল করিত, তাহাও টের পাইতাম । প্রথম দুই-একদিন সে আমাকে লক্ষ্য করিয়াই পরিহাসের চেষ্টা করিয়াছিল ; কিন্তু আমার ভাব দেখিয়া সেও একেবারে নির্বাক হইয় গেল । সেদিন ছিল শনিবার। আমি আর কোনমতেই থাকিতে পারি না। খাওয়াদাওয়ার পরেই রওনা হইয়া পড়িব স্থির হওয়ায়—আজ সকাল হইতেই গান-বাজনার বৈঠক বসিয়া গিয়াছিল। শ্র স্তু হুইয়া বাইজী গান থামাইয়াছে, হঠাৎ গল্পের সেরা গল্প—ভূতের গল্প উঠিয়া পড়িল। নিমিষে যে যেখানে ছিল আগ্রহে বক্তাকে ঘেরিয়া ধরিল। প্রথমটা আমি তাচ্ছিল্যভরেই শুনিতেছিলাম। কিন্তু শেষে উদগ্রীব হইয়া উঠিয়া বসিলাম। বক্তা ছিলেন একজন গ্রামেরই হিন্দুস্থানী প্রধাণ ভদ্রলোক । গল্প কেমন করিয়া বলিতে হয় তাহ। তিনি জানিতেন । তিনি বলিতেছিলেন, প্ৰেতযোনিতে যদি কাহারও সংশয় থাকে—যেন আজিকার এই শনিবার অমাবস্য তিথিতে, এই গ্রামে আসিয়া চক্ষু-কর্ণের বিবাদ ভঞ্জন করিয়! যান। তিনি যে জাত, যেমন লোকই হন, এবং যত ইচ্ছা লোক সঙ্গে করিয়া লইয়া যান, আজ রাত্রে মহাশ্মশানে যাওয়া তাহার পক্ষে নিষ্ফল হইবে না। আজিকার ঘোর রাত্রে এই শ্মশানচারী প্রেতাত্মাকে শুধু যে চোথে দেখা যায়, তাহা নয় ; তাহার কণ্ঠস্বর শুনা যায় এবং ইচ্ছা করিলে তাহার সহিত কথাবাৰ্ত্তা বলা যায়। আমি ছেলেবেলার কথা স্মরণ করিয়া হাসিয়া ফেলিলাম। বৃদ্ধ তাহ লক্ষ্য করিয়া কহিলেন, আপনি আমার ! কাছে আমুন । আমি নিকটে সরিয়া গেলাম । তিনি প্রশ্ন করিলেন, আপনি বিশ্বাল করেন না । त्री । কেন করেন না ? না করার বিশেষ কোন হেতু আছে ? ={। ! তবে ? এই গ্রামেই এমন দুই-একজন সিদ্ধ সাধক আছেন, যারা চোখে দেখেচেন। তবুও ষে আপনারা বিশ্বাস করেন না, মুখের উপর হাসেন, সে শুধু দু’পাত। ইংরাজি পড়ার ফল । বিশেষতঃ বাঙালীর। ত নাস্তিক—স্লেচ্ছ । কি কথায় কি কথা আসিয়া পড়িল। দেখিয়া আমি অবাক হইয়া গেলাম। বলিলাম, দেখুন এ সম্বন্ধে জামি তর্ক করতে চাই নে। আমার বিশ্বাস জামার কাছে । আমি নাস্তিকই হই, স্লেচ্ছই হই, ভূত মালিনে ! যারা চোখে రి ه «- «