প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰই ভগবান আমার মধ্যে কল্পনা-কবিত্বের বাষ্পটুকুও দেন নাই। এই দুটো পোড়া চোখ দিয়া আমি যা কিছু দেপি ঠিক তাহাই দেখি। গাছকে ঠিক গাছই দেধি—পাহাড়পৰ্ব্বতকে পাহাড়-পৰ্ব্বতই দেখি । জলের দিকে চাহিয়া জলকে জল ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না । আকাশে মেঘের পানে চোখ তুলিয়। রাখিয়া, ঘাড়ে ব্যথা করিয়া ফেলিয়াছি, কিন্তু যে মেঘ সেই মেব ! কাহারে নিবিড় এলোকেশের রাশি চুলোয় যাকু-একগাছি চুলের সন্ধানও কোনদিন তাহার মধ্যে খুজিয়া পাই নাই। চাদের পানে চাহিয়া চাহিয়া চোখ ঠিকরাইয়া গিয়াছে ; কিন্তু কাহারো মুখ-টুথ ত কখনো নজরে পড়ে নাই। এমন করিয়া ভগবান যাহাকে বিড়ম্বিত করিয়াছেন, তাহায় দ্বারা কবিত্ব স্বষ্টি করা ত চলে না। চলে শুধু সভ্যতা কথা সোজা করিয়া বলা। অতএব আমি তাহাই পারিব । কিন্তু, কি করিয়া ‘ভবঘুরে’ হইয়া পড়িলাম, সে কথা বলিতে গেলে, প্রভাতজীবনে এ নেশায় কে মাতাইয়া দিয়াছিল, তাহার একটু পরিচয় দেওয়া আবশুক । তাহার নাম ইন্দ্রনাথ । আমাদের প্রথম আলাপ একটা ‘ফুটবল ম্যাচে । আজ সে বাচিয়া আছে কিনা জানি না। কারণ বহুবৎসর পূৰ্ব্বে একদিন অতি প্রত্যুষে ঘরবাড়ি, বিষয়-আশয়, আত্মীয়-স্বজন সমস্ত পরিত্যাগ করিয়া সেই যে একবস্ত্রে সে সংসার ত্যাগ করিয়া চলিয়া গেল, আর কখনও ফিরিয়া আসিল না । উঃ—সে দিনটা কি মনেই পড়ে ! ইস্কুলের মাঠে বাঙ্গালী ও মুসলমান ছাত্রদের ফুটবল ম্যাচ’। সন্ধ্যা হয় হয়। মগ্ন হুইয়া দেখিতেছি । আনন্দের সীমা নাই। হঠাৎ—ওরে বাবা—এ কি রে! চটাপটু শব্দ এবং মারো শালাকে, ধরে শালাকে ! কি একরকম যেন বিহবল হইয় গেলাম । মিনিট দুই-তিন । ইতিমধ্যে কে যে কোথায় অস্তুধান হইয়। গেল, ঠাহর পাইলাম না । ঠাহর পাইলাম ভাল করিয়া তখন, যখন পিঠের উপর একটা আস্ত ছাতির বাট পটুশি করিয়া ভাঙিল এবং আরো গোটা দুই-তিন মাথার উপর, পিঠের উপর উদ্যত দেখিলাম। পাচ-সাতজন মুসলমান-ছোকরা তখন আমার চারিদিকে বুহি রচনা করিয়াছে—পালাইবার এতটুকু পথ নাই। আরও একটা ছাতির বাট-আরও একটা। ঠিক সেই মূহুর্তে যে মানুষটি বাহির হইতে বিদ্বাদৃগতিতে ব্যুহভেদ করিয়া আমাকে আগলাইয়া দাড়াইল—সেই हेटानांथ । ছেলেটি কালে। তাহার বাশির মত নাক, প্রশস্ত সুডৌল কপাল, মুখে দুই-চারিটি বসস্তের দাগ । মাথায় আমার মতই, কিন্তু বয়সে কিছু বড়। কছিল, ভয় কি ! ঠিক জামায় পিছনে পিছনে বেরিয়ে এস।