প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রীকান্ত ইহাঙ্গের দলে একটিমাত্র লোক ছিল, যে স্বীকার করিয়াছিল, সে শিকার করিতে জানে না ; এবং কথাটাও সে সচরাচর একটু কম কহিত এবং মদও একটু কম করিয়া ধাইত। তাহার নাম পুরুষোত্তম। সে সন্ধ্যার সময় আসিয়া আমাকে ধরিল—সঙ্গে যাইবে। কারণ ইতিপূৰ্ব্বে সেও কোনদিন ভূত দেখে নাই। অতএব আজ যদি এমন সুবিধা ঘটিয়াছে, তবে ত্যাগ করিবে না । বলিয়া খুব হাসিতে লাগিল। জিজ্ঞাসা করিলাম, তুমি কি ভূত মান না ? একেবারে না । Cकन भjन मl | মানি না, নেই ব’লে, এই বলিয়া সে প্রচলিত তর্ক তুলিয়া বারংবার অস্বীকার করিতে লাগিল । আমি কিন্তু অত সহজে সঙ্গে লইতে স্বীকার করিলাম না । কারণ বহুদিনের অভিজ্ঞতায় জানিয়াছিলাম, এ সকল যুক্তিতর্কের ব্যাপার নয়—সংস্কার । বুদ্ধি দিয়া যাহারা একেবারেই মানে না তাহার ও ভয়ের জায়গায় আসিয়া পড়িলে ভয়ে মূৰ্ছা যায়। পুরুষোত্তম কিন্তু মাছোড়বান্দা । সে মালকেঁচা মারিয়া পাকা বাশের লাঠি ঘাড়ে ফেলিয়া কহিল, শ্ৰীক্ষাস্তবাবু, আপনার ইচ্ছা হয় বন্দুক নিন, কিন্তু আমার হাতে লাঠ থাকৃতে ভূতই বল আর প্রেতই বল, আর কাউকে কাছে ঘোঁধতে দেব না । কিন্তু সময়ে লাঠি হাতে থাকৃবে ত ? ঠিক থাকৃবে বাবু, আপনি তখন দেখে নেবেন। এক ক্রোশ পথ-রাত্রি এগারোটার মধ্যেই রওনা হওয়া চাই । দেখিলাম তাহার আগ্রহটা যেন একটু অতিরিক্ত । - যাত্রা করিতে তখনও ঘণ্টাখানেক বিলম্ব আছে। আমি তাবুর বাহিরে পায়চারি করিয়া এই ব্যাপারটিই মনে মনে আন্দোলন করিয়া দেখিতেছিলাম— জিনিসটা সম্ভবতঃ কি হইতে পারে। এ সকল বিষয়ে আমি যে লোকের শিষ্য তাহাতে ভূতের ভয়ট আর ছিল না । ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে—সেই একটি রাত্রে যখন ইন্দ্ৰ কহিয়াছিল, শ্ৰীক্ষাস্ত মনে মনে রাম রাম ঝর ! ছেলেটি আমার পিছনে বসিয়া আছে—সেই দিনই শুধু ভয়ে চৈতন্য হারাইয়াছিলাম, আর না। সুতরাং সে ভয় ছিল না। কিন্তু আজিকার গল্পটা যদি সত্য হয়, তাহা হইলে এটাই বা কি ? ইন্দ্র নিজে ভূত বিশ্বাস করিত। কিন্তু সেও কখনো চোখে দেখে নাই। আমি নিজেও মনে মনে যত অবিশ্বাসই করি, স্থান এবং কাল মাহায্যে গা ছমৃ ছম যে না করিত, তাহা নয়। সহসা সম্মুখের এই দুর্তে অমাবস্তার ፃቂ