প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৮৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ করাটা শুধু যে অত্যন্ত অপমানকর স্পৰ্দ্ধ বলিয়া মনে হইল, তাহা নয় ; গত তিন চারি দিনের উভয়পক্ষের ব্যবহারগুলা স্মরণ করিয়াও এই প্রণাম পাঠানোটা যেন স্বইছাড়া কাও বলিয়া ঠেকিল। কিন্তু ভূত্যের সম্মুখে কোনরূপ উত্তেজনা পাছে প্রকাশ পায়, সেই আশঙ্কায় নিজেকে প্রাণপণে সংবরণ করিয়া কহিলাম, আজ আমার সময় নেই রতন, আমাকে বেকতে হবে ; কাল দেখা হবে । রতন সুশিক্ষিত ভৃত্য, জাদব-কায়দায় পাকা । সন্ত্রমের সহিত মুস্থস্বরে কহিল, বড় দরকার বাবু, এখনি একবার পায়ের ধুলো দিতে হবে। নইলে বাইজীই আসবেন বললেন –কি সৰ্ব্বনাশ! এই তাবুতে এতরাত্রে এত লোকের সুমুখে ! বলিলাম, তুমি বুঝিয়ে বলগে রতন, আজ নয়, কাল সকালেই দেখা হবে । আজ আমি কোনমতেই যেতে পারব না । 弱 রতন কহিল, তা হ’লে তিনিই আসবেন । আমি এই পাচ বছর দেখে আসচি বাবু, বাইজীর কোনদিন কখনো এতটুকু কথর নড়-চড় হয় না! আপনি না গেলে তিনি নিশ্চয়ই আসবেন । এই অন্যায় অসঙ্গত জি দেখিয়া পায়ের নখ হইতে মাথার চুল পৰ্য্যস্ত জলিয়া গেল । বলিলাম, আচ্ছা দাড়াও, আমি আসচি। তাবুর ভিতরে ঢুকিয়া দেখিলাম বারুণীর কৃপায় জাগ্রত আর কেহ নাই । পুরুষোত্তম গভীর নিদ্রায় মগ্ন। চাকরদের তাবুতে দুই-চান্নি জন জাগিয়া আছে মাত্র । তাড়াতাড়ি বুটুটা পরিয়া লইয়া একটা কোট গারে দিয়া ফেলিলাম। রাইফেল ঠিক করাই ছিল, হাতে লইয়া রতনের সঙ্গে সঙ্গে বাইজীর তাবুতে গিয়া প্রবেশ করিলাম। পিয়ারী স্বযুখেই দাড়াইয়া ছিল । আমার জাপাদমস্তক বার বার নিরীক্ষণ করিয়া, কিছুমাত্র ভূমিকা না করিয়াই ক্রুদ্ধস্বরে বলিয়া উঠিল, শ্মশানে-টশানে তোমার কোণম তই যাওয়া হবে না- কোন মতেই | | ভয়ানক আশ্চৰ্য্য হইয়া গেলাম—কেন ? - কেন আবার কি ? ভূত-প্রেত কি নেই যে, এই শনিবারের অমাবস্তায় তুমি যাবে শ্মশানে ? প্রাণ নিয়ে কি তা হ’লে আর ফিরে আসতে হবে । বলিয়াই পিয়ারী অকস্মাৎ ঝর ঝর করিয়া কাদিয়া ফেলিল । আমি বিহালের মত নিঃশব্দে চাহিয়া দাড়াইয়া রহিলাম ; কি করিব, কি জবাব দিব, ভাবিয়াই পাইলাম না, ভাবিয়া না পাওয়ার আর আশ্চৰ্য্য কি ? যাহাকে চিনি না, জানি না সে যদি উংকট হিতাকাঙ্ক্ষায় দুপুর রাত্রে ডকাইয়া আনিয়া সুমুখে দাড়াইম্বা ধামোক কাল্লা জুড়িয়া দেয়—হতবুদ্ধি হয় না কে ? আমার জবাব মা পাইয়া পিয়ারী চোখ মুছিতে মুছিতে কহিল, তুমি কি কোন দিন শাস্ত মুৰোধ ፃከም