প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রীকান্ত খাইয়া এই মেয়েটা ঠোট কামড়াইয়া গোজ হইয়া বসিয়া থাকিত ; কিন্তু কিছুতেই বলিত না—প্রত্যহ পাকা ফল সংগ্রহ করা তাহার পক্ষে কত কঠিন। তা সে যাই হোক, এতদিন জানিতাম, মারের ভয়েই সে এত ক্লেশ স্বীকার করিত ; কিন্তু আজ যেন হঠাৎ একটুখানি সংশয় হইল। তা সে যাক । তার পরে ইহার বিবাহ । সেও এক চমৎকার ব্যাপার! ভাগ্নীদের বিবাহ হয় না, মামা ভাবিয়া খুন। দৈবাৎ জানা গেল, বিরিঞ্চি দত্তের পাচকব্রাহ্মণ ভঙ্গ-কুলীনের সস্তান । এই কুলীন-সস্তানকে দত্তমশাই বঁ; কুড হইতে বদলি হইয়া আসার সময় সংগ্ৰহ করিয়া আনিয়াছিলেন । বিরিঞ্চি দন্তের দুয়ারে মামা ধন্ন দিয়া পড়িলেন—ব্রাহ্মণের জাতিরক্ষা করিতেই হইবে । এতদিন সবাই জানিত দত্তদের বামুনঠাকুর হাবা-গোবা ভালোমহিষ । কিন্তু প্রয়োজনের সময় দেখা গেল, ঠাকুরের সাংসারিক বুদ্ধি কাহারে অপেক্ষা কম নয় । একান্নো টাকা পণের কথায় সে সবেগে মাথা নাড়িয়া কহিল, অত সস্তায় হবে না মশাই –বাজার যাচিয়ে দেখুন। পঞ্চাশ-এক টাকায় একজোড়া ভাল রামছাগল পাওয়া যায় না—তা জামাই খুজচেন। একশ-একটি টাকা দিন—একবার এপি'ড়িতে বসে আর একবার ও পিড়িতে বসে দুটো ফুল ফেলে দিচ্ছি। দুই ভাগ্নীই একসঙ্গে পার হবে । আর একশখানি টাকা—দুটো ষাড় কেনার খরচটাও দেবেন না ? কথাটা অসঙ্গত নয় তথাপি অনেক কধা-মাজা ও সহি-মুপারিশের পর সত্তর টাকায় রফা হইয়া একরাত্রে একসঙ্গে স্বরলক্ষ্মী ও রাজলক্ষ্মীর বিবাহ হইয়া গেল। দুইদিন পরে সত্তর টাকা নগদ লইয়া দু-পুরুষে কুলীন-জামাই বাকুড়া প্রস্থান করিলেন। আর কেহ তাহাকে দেখে নাই । বছর-দেড়েক পরে প্লীহা-জরে স্বরলক্ষ্মী মরিল এবং আরও বছর-দেড়েক পরে রাজলক্ষ্মী কাশীতে মরিয়া শিবত্ব লাভ করিল। এই ত পিয়ারী বাইজীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস । বাইজী কহিল, তুমি কি ভাবচ, বলব ? কি ভাব চি ? তুমি ভাবছ, আহা ! ছেলেবেলায় একে কত কষ্টই দিয়েচি । কাটার বনে পাঠিয়ে রোজ-ৱোজ বঁইচি তুলিয়েচি, আর তার বদলে শুধু মার-ধোর করেচি। মার খেয়ে চুপ ক’রে কেবল কেঁদেচে, কিন্তু কখনো কিছু চায়নি। আজ যদি একটা কথা বলচে ত শুনিই না। না হয় নাই গেলাম শ্মশানে। এই না ? আমি হাসিয়া ফেলিলাম । পিয়ারীও হাসিয়া কহিল, হবেই ত । ছেলেবেলায় একবার যাকে ভালবাসা যায়, তাকে কি কখনো ভোলা যায় ? সে একটা অনুরোধ করলে কেউ কখনো bアン b ל-jנג