প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐীকান্ত ছেলেটির বুকের ভিতর সাহস এবং করুণা যাহা ছিল, তাহা দুৰ্ল্লভ হইলেও অসাধারণ হয়ত নয়। কিন্তু তাহার হাত দুখানি যে সত্যই অসাধারণ, তাহাতে লেশমাত্র সন্দেহ নাই । শুধু জোরের জন্য বলিতেছি না। সে দুটি দৈর্ঘ্যে তাহার হাটুর নীচে পৰ্য্যন্ত পড়িত। ইহার পরম সুবিধ। এই যে, যে ব্যক্তি জানিত না, তাহার কস্মিনকালেও এ আশঙ্কা মনে উদয় হইতে পারে না যে, বিবাদের সময় ঐ খাটো মানুষটি অকস্মাৎ হাত-তিনেক লম্বা একটা হাত বাহির করিয়া তাহার নাকের উপর এই আন্দাজের মুট্যাঘাত করিবে । সে কি মুষ্টি ! বাঘের থাবা বলিলেই হয়। মিনিট দুয়ের মধ্যে তাহার পিঠ ঘেষিয়া বাহিরে আসিয়া পড়িলাম। ইন্দ্র বিনাআড়ম্বরে কহিল, পালা । ছুটিতে শুরু করিয়া কহিলাম, তুমি ? সে রুক্ষভাবে জবাব দিল, তুই পাল না— · গাধা কোথাকার | গাধাই হই—আর যাই হই, আমার বেণ মনে পড়ে, আমি হঠাৎ ফিরিয়া দাড়াইয়া বলিয়াছিলাম,--না। ছেলেবেলা মারপিট কে না করিয়াছে ? কিন্তু পাড়াগায়ের ছেলে আমরা—মাস দুই-তিন পূৰ্ব্বে লেখাপড়ার জন্য শহরে পিসীমার বাড়ি আসিয়াছি—ইতিপূৰ্ব্বে এভাবে দল বাধিয়ঃ মারামারিও করি নাই, এমন অস্তি দুটা ছাতির বাট পিঠের উপরও কোনদিন ভাঙে নাই। তথাপি একা পালাইতে পারিলাম না। ইন্দ্র একবার আমার মুখের প্রতি চাহিয়া কহিল, না—তবে কি ? দাড়িয়ে মার খাবি নাকি ? ঐ, ওই দিক থেকে ওরা আসচে–আচ্ছা, তবে খুব কষে দোঁড়ো— এ কাজটা বরাবরই খুব পারি। বড় রাস্তার উপরে আসিয়া যখন পৌঁছান গেল, তখন সন্ধ্যা হইয়া গিয়াছে। দোকানে দোকানে আলো জলিয়া উঠিয়াছে এবং পথের উপর মিউনিসিপ্যালিটির কেরোসিন ল্যাম্প লোহার থামের উপর এখালে একটা, আর ওই ওখানে একটা জালা হইয়াছে। চোখের জোর থাকিলে, একটার কাছে দাড়াইয়া আর একটা দেখা যায় না, তা নয়। আততায়ীর শঙ্কা আর নাই। ইক্স অতি সহজ স্বাভাবিক গলায় কথা কহিল । আমার গলা শুকাইয়া গিয়াছিল, কিন্তু আশ্চৰ্য্য, সে এতটুকুও ইপিায় নাই। এতক্ষণ যেন কিছুই হয় নাই--"মারে নাই, মার খায় নাই, ছুটয়া আসে নাই-না, কিছুই নয়, এমনিভাবে জিজ্ঞাসা করিল, তোর নাম কি রে ? 3-की--खঐকান্ত ? আচ্ছ, বলিয়া সে তাহার জামার পকেট হইতে একমুঠ গুৰুম