প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রীকান্ত ঠিক এমনি সময়ে অনেক দূরে অনেকগুলা গলার সমবেত চিৎকার কানে পৌঁছিল —বাবুজী ! বাবুলাব ! সৰ্ব্বাঙ্গ কাটা দিয়া উঠিল। কাহারা ডাকে ? আবার চীৎকার করিল–গুলি ছুড়বেন না যেন । শব্দ ক্রমশঃ অগ্রসর হইয়া আসিতে লাগিল —গোটা দুই ক্ষীণ আলোর রেখাও আড়চোখে চাহিতে চোখে পড়িল ৷ একবার মনে হইল, চীৎকারের মধ্যে যেন রতনের গলার আভাস পাইলাম। খানিক পরেই টের পাইলাম, সেই বটে। আর কিছুদূর অগ্রসর হইয়া, সে একটা শিমূলের আড়ালে দাড়াইয়া, চেচাইয়া বলিল, বাবু, আপনি যেখানেই থাকুন, গুলি-টুলি ছুড়বেন না—আমরা রতন। রতন লোকটা যে সত্যিই নাপিত, তাহাতে আর ভুল নাই । উল্লাসে চেঁচাইয়া সাড়া দিতে গেলাম, কিন্তু স্বর ফুটিল না। একটা প্রবাদ অাছে, ভূত-প্রেত যাবার সময় কিছু একটা ভাঙ্গিয়া দিয়া যায়। যে আমার পিছনে ছিল, সে আমার কণ্ঠস্বরটা ভাঙ্গিয়া দিয়াই বিদায় হইল । রতন এবং আরও তিনজন লোক গোটা-দুই লণ্ঠন ও লাঠিসোটা হাতে করিয়া কাছে আসিয়া উপস্থিত হইল। এই তিনজনের মধ্যে একজন ছটু লাল—সে তবলা বাজায় ; এবং আর একজন পিয়ারীর দরোয়ান। তৃতীয় ব্যক্তি গ্রামের চৌকিদার। রতন কহিল, চলুন—তিনটে বাজে । চল, বলিয়া আমি অগ্রসর হইলাম। পথে ধাইতে যাইতে রতন বলিতে লাগিল, বাৰু, ধন্য আপনার সাহস । আমরা চারজনে যে কত ভয়ে ভয়ে এসেচি, তা বলতে পারিনে । এলি কেন ? স্বতন কহিল, টাকার লোভে । আমরা সবাই এক মাসের মাইনে নগদ পেয়ে গেছি! বলিয়া আমার পাশে আসিয়া গলা খাটো করিয়া বলিতে লাগিল, বাৰু, আপনি চলে এলে গিয়ে দেখি, মা বসে বসে র্কাদছেন। আমাকে বললেন, রতন, কি হবে বাবা ; তোরা পিছনে যা । আমি এক-একমাসের মাইনে তোদের বকৃশিশ দিচ্ছি। আমি বললুম, ছটু লাল আর গণেশকে সঙ্গে নিয়ে আমি যেতে পারি মা ; কিন্তু পথ চিনিনে। এমন সময় চৌকিদার হাক দিতেই মা বললেন, ওকে ডেকে আন রতন, ও নিশ্চয়ই পথ চেনে। বেরিয়ে গিয়ে ডেকে আনলুম। চৌকিদার ছ’টাকা হাতে পেয়ে তবে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে। আচ্ছা বাবু, কচি ছেলের কান্না শুনতে পেয়েছেন ? বলিয়া রতন শিহরিয়া উঠিয়া, আমার কোটের পিছনটা চাপিয়া ধৰিল ; কছিল, আমাদের গণেশ পাড়ে বামুনমানুষ, তাই আজ রক্ষে পাওয়া গেছে, নইলে— 邯气