প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১০৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিতা-সংগ্ৰহ স্বরেশ চকিত হইয়া কহিল, কে বললে তোমাকে মহিম ? অচলা তাহার ঠিক জবাব না দিয়া পাশের দরজাট চোখ দিয়া দেখাইয়া কহিল, ঐখানে দাড়িয়ে আমি নিজেই সমস্ত শুনেচি । সুরেশ অত্যন্ত অপ্রতিভ হইয়া কহিল, সেজন্য আমি তোমার কাছে মাপ চাচ্ছি অচলা । অচলা মূখ তুলিয়া হাসিয়া কহিল, কেন ? { স্বরেশ অনুতপ্ত-কণ্ঠে কহিল, কারণ ত তুমি নিজেই বললে। আমার নিজের দোষে তাকে তোমাকে দু’জনকে আজ আমি অপমান করেচি। সেই জন্যেই তোমার কাছে বিশেষ করে ক্ষমা প্রার্থনা করচি অচলা । অচলা মুখ তলিয়া চাছিল । সহসা তাহার সমস্ত চোখ-মুখ যেন ভিতরের আবেগে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল ; কহিল, যাই কেন না আপনি করে থাকেন স্বরেশবাবু, সে ত আমার জন্যেই করেচেন ? আমাকে লজ্জার হাত থেকে অব্যাহতি দেবার জন্যই ত আজ আপনার এই লজ্জা । তবুও আমার কাছে আপনাকে মাপ চাইতে হবে, এত বড় অমানুষ আমি নই ৷ কিসের জন্যে আপনি লজ্জিত হচ্ছেন ? যা করেচেন, বেশ করেচেন । স্বরেশের হতবুদ্ধিপ্রায় মুখের পানে চাহিয়া অচলা বুঝিল, সে তাহার কথাটা হৃদয়ঙ্গম করিতে পারে নাই। তাই এক মুহূৰ্ত্ত মৌন থাকিয়া কহিল, আজই আপনি যাবেন না স্বরেশবাবু! এখানে লজ্জা যদি কিছু পেয়ে থাকেন সে ত আমারই লজ্জা ঢাকবার জন্যে ; নইলে নিজের জন্তে আপনার ত কোন দরকারই ছিল না। আর বাড়ি আপনার বন্ধুর একার নয়, এর ওপর আমারও ত কিছু অধিকার আছে। সেই জোরে আমি নিমন্ত্রণ করচি, আমার অতিথি হয়ে অন্ততঃ আর কিছুদিন থাকুন। তাহার সাহস দেখিয়া স্বরেশ অভিভূত হইয়া গেল! কিন্তু দ্বিধাগ্রস্ত হৃদয়ে কি একটা বলিবার উপক্রম করিতেই দেখিতে পাইল, মহিম তাহার বাহিরের কাজ সারিয়া বাড়ি ঢুকিতেছে। অচলা তখন পৰ্য্যন্ত ব্যাগটা সম্মুখে লইয়া মেঝের উপর বসিয়া এই দিকে পিছন ফিরিয়াছিল , পাছে মহিমের আগমন জানিতে না পারিয়া আরও কিছু বলিয়া ফেলে, এই ভয়ে সে একেবারে সঙ্কুচিত হইয়া বলিয়া উঠিল, এই যে মহিম, কাজ সারা হল তোমার ? ই হ’ল, বলিয়া মহিম ঘরে পা দিয়াই অচলাকে তদবস্থায় নিরীক্ষণ করিয়া বলিল, ও কি হচ্ছে ? অচল ঘাড় ফিরাইয়া দেখিল, কিন্তু সে প্রশ্নের জবাব না দিয়া স্বরেশকেই লক্ষ্য 雷姆