প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাই মহিম কহিল, তোমার বাবা কিন্তু আশ্চৰ্য্য হবেন। অচলা বলিল, না । তিনি জানতেন বলেই আমাকে বারংবার সাবধান করবার চেষ্টা করেছিলেন যে, এর ফল কোনদিন ভাল হবে না। কলকাতায় চলে, কিন্তু পল্লীগ্রামে সমাজ, আত্মীয়, বন্ধু সকলকে ত্যাগ করে শুধু স্ত্রী নিয়ে কারও বেশি দিন চলে না। সুতরাং তিনি আর যাই হোন, আশ্চৰ্য্য হবেন না। মহিম কহিল, তবে তার নিষেধ শোনোনি কেন ? অচলা প্রাণপণ-বলে একটা উচ্ছসিত শ্বাস দমন করিয়া লইয়া কহিল, আমি ভাবতুম, তুমি কিছু না বুঝে কর না । সে ধারণা ভেঙে গেছে ? তাই ভাগের কারবারে সুবিধে হ’লো না টের পেয়ে দোকান তুলে দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে চাচ্ছো ? ई । ot মহিম কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া কহিল, তা হলে যেয়ে । কিন্তু একে ব্যবসা বলেই যদি বুঝতে শিখে থাকে, আমার সঙ্গে তোমার মতের মিল হবে না, কিন্তু এ-কথাটাও ভূলো না যে, ব্যবসা জিনিসটাকে বুঝতে সময় লাগে । সে ভূল যদি কখনো ধরা পড়ে আমাকে জানিয়ো, আমি তখনি গিয়ে নিয়ে আসব। অচলার চোখ দিয়া এক ফোটা জল গড়াইয়া পড়িল ; হাত দিয়া তাহা সে মুছিয়া ফেলিয়া কয়েক মূহূৰ্ত্ত স্থির থাকিয়া কণ্ঠস্বরকে সংযত করিয়া বলিল, ভূল মাহুষের বার বার হয় না । তোমার সে কষ্ট স্বীকার করবার দরকার হবে মনে করিনে । মহিম কহিল, মনে করা যায় না বলেই তাকে ভবিষ্যৎ বলা হয় । সেই ভবিষ্যতের ভাবনা ভবিষ্যতের জন্যে রেখে আজ আমাকে মাপ কয়, আমি আর বকতে পায়চিনে । অচলা আঘাত পাইয়া বলিল, আমাকে কি তুমি তামাসা করচ ? তা যদি হয়, তোমার ভূল হচ্চে। আমি সত্যই কাল-পরশু চলে যেতে চাই। মহিম কহিল, আমি সত্যিই তোমাকে যেতে দিতে চাইনে । অচল হঠাৎ অত্যন্ত উত্তেজিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, তুমি কি আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে রাখবে ? সে তুমি কিছুতেই পারে না, জানো ? মহিম শাস্ত সহজভাবে জবাব দিল, বেশ ত, সেও ত অাজই রাত্রে নয় । কালপরশু যখন যাবে, তখন বিবেচনা করে দেখলেই হবে । ঢের সময় আছে, আজ এই পৰ্য্যন্ত থাকৃ। বলিয়া সে মাথার বালিশটা উন্টাইয়া লইয়া সমস্ত প্রসঙ্গ জোর করিয়া বন্ধ করিয়া দিয়া, নিশ্চিন্তভাবে শয়ন করিল এবং বোধ করি বা পরক্ষণেই মুম্বাইয়া