প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ পরদিন সকালে চা থাইতে বসিয়া স্থয়েশ জিজ্ঞাসা করিল, মহিম ত মাঠের চাষবাস দেখতে আজও ভোরে বেরিয়ে গেছে বোধ হয় ? অচলা ঘাড় নাড়িয়া কহিল, পৃথিবী ওলট-পালট হয়ে গেলেও তার অন্যথা হবার জো নেই। স্বরেশ চায়ের বাটিটা মূখ হইতে নামাইয়। রাখিয়া বলিল, এক হিসেবে সে আমাদের চেয়ে ঢের ভাল। তার কাজের একটা গতি আছে, যা কলের চাকার মত যতক্ষণ দম আছে ততক্ষণ চলবেই। ५ অচলা কহিল, কলের মত হওয়াটাই কি আপনি ভাল বলেন ? সুরেশ মাথা নাড়িয়া বলিল, তা বলি, কেন না, এ ক্ষমতা আমার নিজের সাধ্যাতীত । দুর্বল হওয়ার যে কত দোষ, সে ত আমি জানি । তাই, যে স্থিরচিত্ত তাকে আমি প্রশংসা না করে পারিনে। কিন্তু আজ আমাকে ছুটি দাও, আমি বাড়ি शांहैं । অচলা তৎক্ষণাৎ সম্মত হইয়া বলিল, যান। আমি কাল যাচ্ছি। স্বরেশ আশ্চৰ্য্য হইয়া কহিল, তুমি কোথায় যাবে কাল ? কলকাতায় । হঠাৎ কলকাতায় কেন ? কৈ, কাল এ মতলব ত শুনিনি ? বাবার অস্থখ, তাই তাকে একবার দেখতে যাবো । স্বরেশের মুখের উপর উদ্বেগের ছায়া পড়িল, অস্বস্থ বাবাকে হঠাৎ দেখবার ইচ্ছে হওয়া কিছু সংসারে আশ্চৰ্য্য ঘটনা নয় , কিন্তু ভয় হয়, পাছে বা আমার জন্তেই একটা রাগারগি করে— অচলা তাহার কোন জবাব দিল না। যছ স্বমুখ দিয়া যাইতেছিল, স্বরেশ ভাকিয়া কহিল, তোর বাবু মাঠ থেকে ফিরেছেন রে ? যদু কহিল, তিনি আজ সকালে বার হননি। তার পড়বার ঘরে ঘুমোচ্চেন । অচলা তাড়াতাড়ি গিয়া দ্বারের বাহিয় হইতে উকি মারিয়া দেখিল, মহিম একটা চেয়ারের উপর হেলান দিয়া বসিয়া দুই পা টেবিলের উপরে তুলিয়া দিয়া ঘুমাইতেছে। একটা লোক রাত্রের অতৃপ্ত নিদ্রা এইভাবে পোষাইয়া লইতেছে, সংসারে ইহা একান্ত অদ্ভুত নহে, কিন্তু অচলার বাস্তবিকই বিস্ময়ের অবধি রহিল না, যখন সে স্বচক্ষে দেখিল, তাহার স্বামী দিনের কৰ্ম্ম বন্ধ রাখিয়া এই অসময়ে ঘুমাইয়া পড়িয়াছেন। সে পা টিপিয়া ঘরে চুকিয়া চুপ করিয়া তাহার মুখের পানে চাহিয়া রছিল। সম্মুখের খোলা জানাল দিয়া প্রভাতের অপৰ্যাপ্ত আলোক সেই নিদ্রামগ্ন মুখের উপর পড়িয়াছিল। আজ অকস্মাৎ এতদিন পরে তাহার চোখের উপর এমন একটা নতুন জিনিস পড়িল যাহা ইতিপূৰ্ব্বে কোনদিন সে দেখে নাই। আজ 3 е е