প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अब्र९-जाहिउा-जरअंश् জামার চিরকাল যেমন বাক্সে বন্ধ থাকে, এখনো তেমনি আছে । তোমরা এত ভয় পাবে জানলে আমি দোর বন্ধ করতাম না। সুরেশ চায়ের পোয়ালাটা নামাইয়া রাখিয়া হাসিবার মত মুখের ভাব করিয়া বলিল, বা, ভয় পেতে যাবো কেন হে? তুমি আমার উপর গুলি চালাবে বা:– প্রাণের ভয় । আমি ? কবে আবার তুমি দেখলে ? আচ্ছ যা হোক— তাহার অসংলগ্ন কৈফিয়ং শেষ হইবার পূৰ্ব্বেই মহিম কহিল, সত্যই কখনো ভয় পেতে তোমাকে দেখিনি। প্রাণের মায়া তোমার নেই বলেই আমি জানতাম । সুরেশ, আমার নিজের দুঃখের চেয়ে তোমার এই অধঃপতন আমার বুকে আজ বেশি করে বাজল। যাতে তোমার মত মানুষকেও এত ছোট করে আনতে পারে—ন, সুরেশ, কাল তুমি নিশ্চয় বাড়ি যাবে। কোন ছলে আর দেরি করা চলবে না। স্বরেশ তবুও কি একটা জবাব দিতে চাহিল ; কিন্তু এবার তাহার গলা দিয়া স্বরও ফুটিল না, ঘাড়টা সোজা করিতেও পারিল না ; সেটা যেন তাহার অজ্ঞাতসারেই ফুকিয়া পড়িল । তুমি ভেতরে যাও অচলা, বলিয়া মহিম খিল খুলিয়। পরক্ষণেই অন্ধকারের মধ্যে বাহির হইয়া গেল । এইবার স্বরেশ মাথা তুলিয়া জোর করিয়৷ হাসিয়া কহিল, শোন কথা । অমন কত গণ্ড বন্দুক-পিস্তল রাত-দিন নাড়াচাড়া করে বুড়ো হয়ে এলুম, এখন ওর একটা ভাঙা ফুটো রিভলভারের ভয়ে মরে গেছি আর কি ! হাসালে যা হোক, বলিয়া মুরেশ নিজেই টানিয়া টানিয়া হাসিতে লাগিল । সে হাসিতে যোগ দিবার মত লোক ঘরের মধ্যে অচলা ছাড়া আর কেহ ছিল না । সে কিন্তু যেমন ঘাড় হেঁট করিয়া এতক্ষণ দাড়াইয়াছিল, তেমনি ভাবেই আরও কিছুকাল স্তন্ধভাবে থাকিয়া ধীরে ধীরে পাশের দরজা দিয়া ভিতরে চলিয়া গেল । ঘণ্টা-খানেক পরে মহিম নিজের ঘরে প্রবেশ করিয়া দেখিল, কেহ নাই। পাশের ঘরে দেখিল, মাটিতে মাদুর পাতিয়া, হাতের উপর মাথা রাখিয়া অচল শুইয়া আছে । স্বামীকে ঘরে ঢুকিতে দেখিয়া সে উঠিয়া বসিল ! পাশে একটা খালি তত্তোপোশ ছিল, মহিম তাহার উপর উপবেশন করিয়া বলিল, কেমন, কাল তোমার বাপের বাড়ি যাওয়া ত ঠিক ? অচলা নীচের দিকে চাহিয়া বসিয়া রহিল, কোন জবাব দিল না ! মহিম আল্লক্ষণ অপেক্ষা করিয়া পুনশ্চ কহিল, যাকে ভালবাস না, তারই ঘর করতে হবে, এত বড় অন্যায় উপদ্রব আমি স্বামী হলেও তোমার ওপর করতে পারব না । কিন্তু অচল। তেমনি পাষাণ-মূৰ্ত্তির মত নিঃশদ্ধ স্থির হইয়া রহিল দেখিয়া মহিম 3 ste