প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মহিম চকিত হইয়া জিজ্ঞাস্বমুখে চাহির রহিল। পার্থেই বেড়ার আড়ালে অচলা জিনিসপত্র লইয়া স্তন্ধ হইয়া বসিয়াছিল, সেও শুনিবার জন্ত উৎকর্ণ হইয়া উঠিল। ভূমিকা এই পৰ্য্যস্ত করিয়া বাড়য্যেমশাই বলিতে লাগিলেন, ব্রহ্মার ক্রোধ ত শুধু শুধু হয় না বাবা! আমাদের একবার জিজ্ঞাসা পৰ্য্যন্ত করলে না, এত বড় বামুনের ছেলে হয়ে কি অপকৰ্ম্মটাই না করলে বল দেখি । মহিম কথাটা বুঝিতে পারিল না। তিনি নিজের কথাটার তখন বিস্তৃত ব্যাখ্যা করিতে অনুচরগণের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া বলিতে লাগিলেন, আমরা সবাই বলাবলি করি যে, কিছু একটা ঘটবেই । কৈ, আর কারুর প্রতি ব্ৰহ্মার অরুপ হ'ল না কেন ! বাবা, বেম্মও যা, খ্ৰীষ্টানও তাই । সাহেব হলেই বলে খ্ৰীষ্টান, জার বাঙালী হইলেই বলে বেম্ম । , এ আমাদের কাছে—যাদের শাস্ত্রজ্ঞান জন্মেচে-- তাদের কাছে চাপ থাকে না । উপস্থিত সকলেই ইহাতে অনুমোদন করিল। তিনি উৎসাহ পাইয়া বলিয়া উঠিলেন, যাই কর না বাবা, আগে একটা প্রায়শ্চিত্ত করে ওটাকে ত্যাগ করে— মহিম হাত তুলিয়া বলিল, থামুন। আপনাদের আমি অসন্মান করতে চাইনে, কিন্তু যা নয় তা মুখে আনবেন না। আমি র্যাকে ঘরে এনেচি, তার পুণ্যে ঘর থাকে ভালই ; না হয় বার বার পুড়ে যায়, সেও আমার সহ হবে । বলিয়া অন্তত্ব চলিয়া গেল । বাড়ুয্যেমশাই সমস্ত সাঙ্গোপাঙ্গ লইয়া কিছুক্ষণ ষ্টা করিয়া দাড়াইয়া থাকিয়া পাঠি ঠক্ ঠক্‌ করিয়া ঘরে ফিরিয়া গেলেন । মনে মনে যাহা বলিতে বলিতে গেলেন তাহা মুখে না আনাই ভাল । অচলা সমস্ত শুনিতে পাইয়াছিল ; তাহার দুই চক্ষু বাহিয়া বড় বড় অশ্রীর ফোট ঝরিয়া পড়িতে লাগিল । যন্থ আসিয়া কহিল, মা, তোমাকে জিজ্ঞাসা করে বাবু পান্ধীবেহার ডেকে আনতে বললেন । আনব ? অচলা আঁচলে চোখ মুছিয়া ফেলিয়া কহিল, বাবুকে একবার ডেকে দাও ত যছ। পাষ্ট্ৰী ? এখন থাক । মহিম কাছে আসিয়া দাড়াইতে তাহার চোখে আবার জল আসিয়া পড়িল । সে হঠাৎ ঝুঁকিয়া পড়িয়া তাহার পায়ের ধূলা মাথায় লইতেই মহিম বিক্ষিত ব্যস্ত হইয়া উঠিল। হয়ত সে স্বামীর হাত দুটা ধরিয়া কাছে টানিয়া বসাইত, হয়ত বা আরও কিছু ছেলেমান্থষি করিয়া ফেলিত , কি করিত, তা সে তাহার অন্তৰ্য্যামীই ৯১২ -