প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাই অপ্রিয় কথা নিজের কানেই শুনিতে হয়, এই ভয়ে সে যেমন নিঃশব্দে আসিয়াছিল, তেমনই নীরবে ফিরিয়া যাইতে চাহিল, কিন্তু কিসে যেন তাহারা পা লোহার শিকলে বাধিয়া দিয়া গেল । কেদারবাবু আল্লক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া প্রশ্ন করিলেন, দু’জনের তা হলে বনিবনাও হয়নি বল ? কি কহিল, মোটে না বাৰু, মোটে না । একটি দিনের তরে না । এই দাসীটিকে অচলা নিৰ্ব্বোধ বলিয়াই এতদিন জানিত, আজ দেখিল, বুদ্ধি তাহার কাহারো অপেক্ষ কম নয় । কেদারবাবু আবার মিনিট-খানেক মৌন থাকিয়া বলিলেম, কাল রাতে তা হলে কারও খাওয়া হয়নি বল ? স্বরেশ যাওয়৷ পৰ্য্যস্থই একরকম ঝগড়া বাটিতেই দিন কাটছিল । দাসীর উত্তর শুনা গেল না বটে, কিন্তু পিতার মুখের মন্তব্য শুনিয়াই বুঝা গেল, সে গ্রীবা আন্দোলনের দ্বারা কিরূপ অভিমত ব্যক্ত করিল। কারণ, পরক্ষণেই কেদারবাবু একটি গভীর নিশ্বাস মোচন করিয়া বলিলেন, এমনটি যে একদিন ঘটবে আমি আগেই জানতুম। আজকালকার ছেলে-মেয়েরা ত বাপ-মায়ের কথা গ্রাহ করে না ; নইলে আমি ত সমস্তই একরকম ঠিক করে এনেছিলুম। আজ তা হলে ওর ভাবনা কি ! বলিয়া আর একটা দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করিলেন, তাহাও স্পষ্ট শুনিতে পাওয়া গেল । ঝি পূর্ণ সহানুভূতির সহিত প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কহিল, তাই বলুন ত বাবু, নইলে আজ ভাবনা কি ! কোন অজ পাড়াগায়ে কি না একটা খোড়ে মেটে বাড়ি । তাও রইল কৈ ? আজ জামাইবাবুও ত—, বলিয়া সেও কথাটাকে শেষ না করিয়াও একটা দীর্ঘশ্বাসের দ্বারা অনেকদূর পর্যন্ত ঠেলিয়া দিল । কপাল! বলিয়া কেদারবাবু মিনিট-দুই নিঃশব্দে থাকিয়, উঠিয়া দাড়াইয়া কহিলেন, আচ্ছ, তুই যা ; বলিয়া তাহাকে বিদায় দিয়া আলো নিবাইবার জন্য বেয়ারাকে ডাকাডাকি করিতে লাগিলেন । অচলা পা টিপিয়া আস্তে আস্তে তাহার ধরে আসিয়া বিছানায় শুইয়া পড়িল । পিতার উদারত, তাহার ভব্যতাবোধের ধারণা কোনদিনই তাহার মনের মধ্যে খুব উচ্চ অঙ্গের ছিল না, কিন্তু সে যে বাটীর দাসীর সহিত নিভৃতে আলোচনা করিবার মত এত ক্ষুদ্র, ইহাও সে কখনও ভাবিতে পারিত না । আজ তাহার নিজের মন ছোট হইয়া মাটিতে লুটাইতেছে—কিন্তু তাহার স্বামী, তাহার পিতা, তাহার দাসী —তাহার বন্ধু—সবাই যখন তাহারই মত ভূমিতলে পড়িয়া, তখন কাহাকেও অবলম্বন করিয়া কোনদিন যে সে এই ধুলিশয্যা হইতে উঠিয়া দাড়াইতে পারবে, এ ভরসা কল্পনা করিতেও পারিল না । »ቘ » ه-س ۹