প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


शृंझनांझ् তুলে দাও ত । শেভ করবার জিনিসগুলো পৰ্য্যন্ত তার মধ্যে আছে। দেরি করে না, আমি এখখুনি যাবে। যে আঞ্জে, বলিয়া সে চলিয়া গেলে আবার সমস্ত কক্ষটা স্তন্ধ হইয়া রহিল। খানিক পরে স্বরেশ হঠাৎ জিজ্ঞাসা করিল, মহিমের কোন খবর পাওয়া গেল ? কেদারবাবু মুখ না তুলিয়াই শুধু বলিলেন, না। স্বরেশ কহিল, আশ্চৰ্য্য! তার পরে আবার সমস্ত চুপ-চাপ। বেয়ারা ফিরিয়া আসিয়া জানাইল, ব্যাগ র্তাহার গাড়িতে তুলিয়া দেওয়া হইয়াছে ! আমি তা হলে চললুম। মহিমের চিঠি এলে আমাকে একটু খবর পাঠাবেন, বলিয়া স্বরেশ উঠিবার উপক্রম করিতেই সহসা কেদারবাবু হাতের কাগজখানা মাটিতে ফেলিয়া দিয়া বলিয়া উঠিলেন, তুমি একটু অপেক্ষ কর স্বরেশ, আমি আসচি! বলিয়া তাহার মুখের প্রতি দৃষ্টিপাত না করিয়াই চটিজুতার পটাপট শন্ধ করিয়া একটু দ্রুতবেগেই ঘর ছাড়িয়া চলিয়া গেলেন । এতক্ষণ অবধি অচলা আধোমুখেই ছিল । তিনি বাহির হইয়া যাইতেই বিস্থিত সুরেশ অকস্মাৎ মুখ ফিরাইতেই তাহার দৃষ্টি অচলার ত্রস্ত পীড়িত ও একান্ত মলিন দুই চক্ষুর উপর গিয়া পড়িল। জিজ্ঞাসা করিল, ব্যাপার কি ? অচলা মুখ আনত করিয়া শুধু মাথা নাড়িল । স্বরেশ বলিল, আমি যে কত দুঃখিত, কত লজ্জিত হয়েচি তা বলে জানাতে পারিনে । অচলা অধোমুখে নীরবে বসিয়া রহিল । সে পুনশ্চ কহিল, তোমার বাবা যে আমাকে এমন হীন, এত বড় পাষণ্ড ভাবতে পারেন, এ আমি স্বপ্নেও মনে করিনি । এ অভিযোগেও অচল কোন উত্তর দিল না, তেমনি স্থির হইয়া বসিয়া রহিল । স্বরেশ বলিল, আমার এমনি ইচ্ছা হচ্ছে যে এখখুনি মহিমের কাছে গিয়ে তাকে— কথাটা শেষ হইতে পাইল না, কেদারবাবু ফিরিয়া আসিলেন। তাহার হাতে একখানা, ছোট কাগজ। সেইখানা স্বরেশের সম্মুখে টেবিলের উপর রাখিয়া দিয়া কহিলেন, গড়িমসি করে তোমার সেই টাকাটার একখানা রসিদ দেওয়া আর ঘটে উঠেনি। পাচ হাজার টাকার হ্যাগুনেটিই লিখে দিলুম—সুদ বোধ হয় আর দিতে পারব না ; তবে এই বাড়িটা ত রইল, এর থেকে আসলটা শোধ হতে পারবেই। স্বরেশ স্তম্ভিতের স্তায় ক্ষণকাল দাড়াইয়া থাকিয়া বলিল, আমি ত আপনার কাছে হ্যাগুনোট চাইনি কোরবাবু! 拳 - ኧ¢