প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাহ করিয়া চীৎকার করিয়া উঠিলেন, নিয়ে যা বলচি ব্যাটা, নিয়ে যা স্বমুখ থেকে। বেরো বলচি— - হতবুদ্ধি বেয়ারাট মনিবের কাও দেখিয়া ক্রতপদে পলায়ন করিতেই, তিনি কস্তার প্রতি অগ্নি-দৃষ্টিক্ষেপ করিয়া কণ্ঠস্বর আরও একপর্দা চড়াইয়া দিয়া বলিলেন, হারামজাদ, নচ্ছার যদি আর কোনদিন কোন ছলে আমার বাড়ি চোকবার চেষ্টা করে ত তাকে পুলিশে দেব—এই আমি তোমাকে জানিয়ে রাখলুম অচলা! নিজের নাম শুনিয়া অচলা তাহার একান্ত পাণ্ডুর মুখখানি ধীরে ধীরে উন্নত করিয়া ব্যথিত মান চক্ষুদ্রটি পিতার মুখের প্রতি নিঃশব্দে মেলিয়া চাহিয়া রহিল। পিত কহিলেন, টাকা ছড়িয়ে বাপের চোখকে বন্ধ করা যায় না, পাবও যেন একথা মনে রাখে ] কন্যা তথাপি নিরুত্তর হইয়া বহিল, কিন্তু তাহার মলিন দৃষ্টি যে উত্তরোত্তর প্রখর হইয়া উঠিতে লাগিল, পিতার দৃষ্টিতে তাহা পড়িল না। তিনি তর্জনী কম্পিত করিয়া কহিতে লাগিলেন, হাওনোট ছিড়ে ফেলে বাপকে ঘুষ দেওয়া যায় না, এ-কথা আমি তাকে বুঝিয়ে তবে ছাড়ব । এ-বাড়ি আমি নিজে বিক্ৰী করে নিজের ঋণ পরিশোধ করে যেখানে ইচ্ছে চলে যাবো—আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না, তা বলে রাখচি । $ এতক্ষণ পরে অচলা কথা কছিল। প্রথমটা বাধা পাইল বটে, কিন্তু তার পরে স্থির অবিচলিত-কণ্ঠে কহিল, ঋণ-পরিশোধ না করে বাড়িটা আমার জন্তে রেখে যাবে, এই কি আমি প্রত্যাশা করি বাবা ? তুমি না করলে ত এ-কাজ আমাকেই করতে হ’তো । কেদারবাবু অধিকতর উত্তেজিতভাবে জবাব দিলেন, তোমরা যা করে এসেচ, শুধু তাইতেই ত আমি ভদ্রসমাজে মুখ দেখাতে পায়চিনে, তা তুমি জানো ? অচলা তেমনি শান্ত দৃঢ়স্বরে প্রত্যুত্তর দিল, ন, আমি জানিনে। আমি এমন কিছু যদি করতুম বাবা, যার জন্তে তুমি মুখ দেখাতে পারে না, তা হলে সকলের আগে আমার মূখই তোমরা কেউ দেখতে পেতে না। সে-দেশে আর যারই অভাব খাক, ডুবে মরবার জলের অভাব ছিল না। বলিতে বলিতেই কান্নায় তাহার গলা ধরিয়া আসিল কহিল, কাল থেকে যে অপমান আমাকে তুমি করচ, শুধু মিথ্যে বলেই সইতে পেরেচি, নইলে— এইখানে তাহার একেবারে কণ্ঠরোধ হইয়া গেল। সে মুখের উপর আঁচল চাপিয়া ধরিয়া উচ্ছ্বলিত ক্ৰন্দন কোনমতে সংবরণ করিয়া দ্রুতবেগে ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল । কেদারবাৰু একেবারে হতবুদ্ধি হইয়া গেলেন । ক্রোধ করিবার, জাঘাত করিবার, እoፃ