প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কিন্তু স্ত্রীর একান্ত লজ্জিত মুখের পানে চাহিয়া মহিম সস্নেহে সকৌতুকে হাসিল । কহিল, এতে লজ্জা কি অচলা ? চাকরটাই হয়ত উল্টো-পাণ্টা করে তোমারটা তার ঘরে দিয়ে তায়টা এখানে রেখে গিয়েচে । না হয় মুরেশ নিজেই হয়ত কাল বিকেলবেলা ফেলে গিয়েচে, রাত্রে চিনতে না পেরে তুমি গায়ে দিয়েচ। বেয়ারাকে ডেকে বদলে আনতে বলে দাও । দিই বলিয়া সেখান হাতে করিয়া অচলা বাহির হইয়া আসিল এবং পাশের ঘরে ঢুকিয়া যখন অবসরের মত বসিয়া পড়িল, তখন বুঝিতে কিছুই আর তাহার অবশিষ্ট ছিল না। অনেক রাত্রে সকলে ঘুমাইয়া পড়িলে স্বরেশ যে নিঃশব্দে ঘরে প্রবেশ করিয়াছিল, এবং শীতের মধ্যে তাহাকে ওভাবে নিদ্রিত দেখিয়া আপনার গাত্রবাসখানি দিয়া ঘুমন্ত তাঁহাকে সক্ষেহে সযত্নে আচ্ছাদিত করিয়া নীরবে চলিয়া গিয়াছিল, ইহাতে তাহার আর লেশমাত্র সংশয় রহিল না । সে চোখ বুঝিয়া সেই আনত সতৃষ্ণ দৃষ্টি যেন স্পষ্ট দেখিতে পাইয়া রোমাঞ্চিত হইয়া উঠিল । তাহার মনে হইতে লাগিল, শুধু তাহাকে দেখিবার জন্য এবং ভাল করিয়াই দেখিবার জন্য যে আমন করিয়া আসিয়াছে, এবং হয়ত প্রতি রাত্রেই আসিয়া থাকে, কেহ জানিতেও পারে না । এই কদাচারে তাহার লজ্জার পরিসীমা রহিল না ; এবং ইহাকে সে কুৎসিত বলিয়া, গৰ্হিত বলিয়া, অভদ্র বলিয়া সহস্রপ্রকারে অপমানিত করিতে লাগিল এবং অতিথির প্রতি গৃহস্বামীর এ চৌর্য্যবৃত্তিকে সে কোনদিন ক্ষমা করিবে না বলিয়া নিজের কাছে বারংবার প্রতিজ্ঞ করিল ; কিন্তু তথাপি সমস্ত মনটা যে এই অভিযোগে কোনমতেই সায় দিতেছে না, ইহাও তাহার অগোচরে রহিল না এবং কোথায় কিসে যে তাহার এতদিন উঠিতে বসিতে বিধিতেছিল তাহাও যেন একেবারে স্বম্পষ্ট হইয়া দেখা দিল । কেদারবাবুর এক বাল্যবন্ধু জব্বলপুর সহরে বাস করেন ; তাহার নিকট হইতে উত্তর আসিল, জল-বায়ু ও প্রাকৃতিক দৃশ্যে এ-স্থান অতি উৎকৃষ্ট। তাহার নিজের বাসাও খুব বড় ; অতএব মহিমের যদি আসাই হয় ত সে স্বচ্ছন্দে তাহার কাছেই থাকিতে পারে। একদিন সকালে কেদারবাৰু আসিয়া এই সংবাদ জ্ঞাপন করিলেন ; এবং মাঘমাস যখন শেষ হইয়াই আসিতেছে এবং পথের অল্প-স্বল্প ক্লেশও যখন সহ করিতে সমর্থ, তখন আর কাল-বিলম্ব না করিয়া তাহার যাত্রা করাই কৰ্ত্তব্য । যুব-বয়সে তিনি নিজে একবার জব্বলপুরে গিয়াছিলেন, সেই স্থতি র্তাহার মনে ছিল, মহা উল্লাসে সেই সকল বর্ণনা করিয়া কহিলেন, জগদীশের স্ত্রী এখনো জীবিত আছেন, তিনি মায়ের মত মহিমকে যত্ন করিবেন, এবং চাই কি, এই উপলক্ষে তাহারও আর S$ve