প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


शृश्मांझ् একবার দেশটা দেখা হইয়া যাইবে। মহিম চুপ করিয়া এইসকল শুনিল, কিন্তু কিছুমাত্র উৎসাহ প্রকাশ করিল না। এই আগ্রহহীনতা শুধু অচলাই লক্ষ্য করিল। পিতা প্রস্থান করিলে সে আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, কেন, জব্বলপুর ত বেশ জায়গা, তোমার যেতে কি ইচ্ছে নেই ? * মহিম কহিল, তোমরা সকলে আমাকে যতটা স্বস্থ সবল ভাবচ, ততটা এখনো আমি হইনি। কোনদিন হ’ব কিনা, তার আমি আশা করিনে । অচলা কহিল, সেই জন্যই ত ডাক্তার তোমার চেঞ্জের ব্যবস্থা করেচেন। একবার ঘুরে এলেই সমস্ত সেরে যাবে। মহিম ধীরে ধীরে ঘাড় নাড়িয়া ক্ষণকাল চুপ করিয়া রহিল। পরে কহিল, কি জানি। কিন্তু এ অবস্থায় আমার নিজের বা পরের উপর নির্ভর করে স্বর্গে যেতেও ভরসা হয় না । অচলা, ভেতরে ভেতরে আমি দুৰ্ব্বল, বড় অনুস্থ । তুমি কাছে না থাকলে হয়ত আমি বেশিদিন বাঁচবো না। বলিতে বলিতে তাহার কণ্ঠস্বর যেন সজল হইয়া উঠিল। যে মুখ ফুটিয়া কখনো কিছু চাহে না, কখনো নিজের দুঃখ অভাব ব্যক্ত করে না, তাহারই মুখের এই আকুল ভিক্ষা ঠিক যেন শূলের মতন আঘাত করিয়া অচলার হৃদয়ে যত স্নেহ, যত করুণ, যত মাধুর্ঘ্য এতদিন রুদ্ধ হইয়াছিল, সমস্ত একসঙ্গে এক মুহূর্তে মুখ খুলিয়া দিল । সে নিজেকে আর ধরিয়া রাখিতে না পারিয়া পাছে অসম্ভব কিছু একটা করিয়া বসে এই ভয়ে চক্ষের জল চাপিতে চাপিতে একেবারে ছুটিয়া বাহির হইয়া গেল ! মহিম হতবুদ্ধির মত অনেকক্ষণ পৰ্য্যন্ত বিস্ময়ে ব্যথায় সেই উন্মুক্ত দ্বারের দিকে নির্নিমেষে চাহিয়া থাকিয়া আবার ধীরে ধীরে শুইয়া পড়িল । আবার যখন উভয়ে সাক্ষাৎ হইল তখন স্বামী-স্ত্রীর কেহই এ-সম্বন্ধে কোন কথা কহিল না। পরদিন অচলা একখান টেলিগ্রাম হাতে করিয়া আসিয়া হাসিমুখে কহিল, জগদীশবাবু টেলিগ্রামের জবাব দিয়েচেন, তার বাসার কাছে আমাদের জন্ত তিনি একটা ছোট বাড়ি ঠিক করেচেন। মহিম কথাটা ঠিক বুঝিতে না পারিয়া বলিল, তার মানে ? অচলা কহিল, বাবার বন্ধু বলে তোমাকেই না হয় তিনি বাড়িতে জায়গা দিতে পারেন। কিন্তু দু'জনে গিয়ে ত তার কাধে ভর করা যায় না। তাই কালই একটা বাসা ঠিক করবার জন্তে টেলিগ্রাম করতে বাবাকে চিঠি লিখে দিই। এই তার জবাব । বলিয়া সে হলদে খামখানা স্বামীর বিছানার উপর ছুড়িয়া দিল । মহিম হাতে লইয়া সেখানা আগাগোড়া পড়িয়া শুধু বলিল, আচ্ছ । অচলা যে স্বেচ্ছায় সঙ্গে যাইতে চাহে, ইহা সে বুঝিল । কিন্তু কল্যকার আচরণ, যাহা আজও তাহার কাছে তেমনি দুৰ্ব্বোধ্য, তেমনিই দুজ্ঞেয়, তাহাই স্মরণ করিয়া কোনরূপ অযথা চাঞ্চল্য প্রকাশ করিতে আর তাহার প্রবৃত্তি হইল না। - እ8ግ