প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ছিল। অপরাহের কাছাকাছি পুনরায় চাপিয়া জল আসিল । এই জলের মধ্যে মেয়েটি নামিয়া যাইবে, সে তাহার উদ্যোগ আয়োজন করিতে লাগিল। অচলা আর স্থির থাকিতে না পারিয়া, একেবারে তাহার কাছে আসিয়া বসিয়া পড়িল । তাহার হাতখানি নিজের হাতের মধ্যে টানিয়া লইয়া স্নিগ্ধকণ্ঠে কহিল, নিজের ব্যবহারের জন্য আমি অত্যন্ত লজ্জিত । আমাকে আপনি মাপ করুন ! মেয়েটি হাসিল, কিন্তু সহসা উত্তর দিতে পারিল না। অচলা পুনরায় কহিল, আমার মন খারাপ থাকলে কি যে করে ফেলি, তার কোন ঠিকানা থাকে না । স্বামী পীড়িত, তাকে নিয়ে হাওয়া বদলাতে যাচ্ছি—ভাল হ’ন ভালই, না হলে ঐ বিদেশে কি যে হবে, তা শুধু ভগবানই জানেন। বলিতে বলিতে তাহার কণ্ঠ আৰ্দ্ৰ হইয়া উঠিল । মেয়েট বিস্মিত হইয়া কহিল, কিন্তু আপনার স্বামীকে দেখলে ত পীড়িত বলে মনে হয় না ! অচলা কহিল, আমার স্বামী এই গাড়িতেই আছেন, কিন্তু আপনি তাকে দেখেননি। উনি আমার স্বামীর বন্ধু। মেয়েটি অধিকতর আশ্চৰ্য্য হইয়া চুপ করিয়া রহিল। এই বন্ধুটি তাহার স্বামী কি না, জিজ্ঞাস করায় সে যে হু বলিয়া সায় দিয়াছিল, এ-কথা অচলার মনেই ছিল না, কিন্তু মেয়েটি তাহ বিস্কৃত হয় নাই ; কিন্তু তাহার বিস্ময়কে অচলা সম্পূর্ণ অন্যভাবে গ্রহণ করিল। স্বরেশের সহিত তাহার আচরণ ও বাক্যালাপে সে নিজের অন্তরে লজ্জ দিয়া বিকৃত করিয়া সাধারণ হিন্দুনারীর চক্ষে ইহা কিরূপ বিসদৃশ হইয়াছে, তাহাই কল্পনা করিয়া লজ্জায় মরিয়া গেল এবং একান্ত নিরর্থক ও বিত্র জবাবদিহির স্বরূপে বলিয়া ফেলিল, আমরা হিন্দু নই— ব্রাহ্ম । মেয়েটি তবুও মৌন রহিল দেখিয়া অচলা সসঙ্কোচে তাহার হাতখানি ছাড়িয়া দিয়া কহিল, আমাদের আচার-ব্যবহার আপনার সমস্তই বুঝতে না পারলেই আমাদের অদ্ভূত বলে ভাববেন না। এইবার মেয়েটি হাসিল, কহিল, আমরা ত ভাবিনে, বরঞ্চ আপনারাই যে কোন কারণে হোক আমাদের থেকে দূরে থাকতে চান। কেমন করে জানলুম ? আমাদের দুই-একটি আত্মীয় আছেন যারা আপনাদের সমাজের। তাদের কাছ থেকেই আমি জানতে পেরেচি, বলিয়া সে হাসিতে লাগিল । অচলা জিজ্ঞাসা করিল, সে কারণটি কি ? মেয়েটি কহিল, সে আপনি নিশ্চয়ই জানেন। না জানেন ত সমাজের কাউকে 》貌峰