প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তাহা আকাশ-বাতাস কম্পিত করিয়া প্ল্যাটফৰ্ম্ম ত্যাগ করিয়া বাহির হইয়া গেল এবং অখও অন্ধকার ব্যতীত সন্মুখে আর কোন ব্যবধানই রহিল না। আবার ঘণ্টায় ঘা পড়িল । ইহা যে এ-গাড়ির জন্ত অচলা তাহা বুঝিল, কিন্তু র্তাহারা উঠিলেন কি না, কোথায় উঠিলেন, জিনিস-পত্র সমস্ত তোলা হইল কি না কিংবা কিছু রহিয়া গেল, কিছুই জানিতে না পারিয়া সে অত্যন্ত চিন্তিত হইয়া উঠিল । একজন পিয়াদা সৰ্ব্বাঙ্গ কম্বলে ঢাকিয়া নীল লণ্ঠন হাতে বেগে চলিয়াছে। স্বমুখে পাইয়া অচলা ডাকিয়া প্রশ্ন করিল, সমস্ত প্যাসেঞ্জার উঠিয়াছে কি না । প্রথম শ্রেণীর কামরা দেখিয়া লোকটা থমকিয়া দাড়াইয়া কহিল, ই মেমসাহেব । অচলা কতকটা স্বস্থির হইয়া সময় জিজ্ঞাসা করায় লোকটা কহিল, নয় বাজকে— o: নয় বাজ কে ? অচলা চমকিয়া উঠিল। কিন্তু এলাহাবাদে পৌঁছিতে ত রাত্রি প্রায় শেষ হইবার কথা। ব্যাকুল হইয়া প্রশ্ন করিল, এলাহাবাদ– কিন্তু লোকটা আর দাড়াইতে পারিতেছিল না ! উপরে ছাদ ছিল না তাই আকাশের বৃষ্টি ছাড়া গাড়ির ছাদ হইতে জল ছিটাইয় তাহার চোখে-মুখে স্থচের মত বিধিতেছিল। সে হাতের আলোকটা সবেগে নাড়িয়া দিয়া, মোগলসরাই ! মোগলসরাই ! বলিয়া দ্রুতবেগে প্রস্থান করিল। বঁাশী বাজাইয়া গাড়ি ছাড়িয়া দিল। এমন সময়ে সুরেশ তাহার সম্মুখ দিয়া ছুটিতে ছুটিতে বলিয়া গেল—ভয় নেই—আমি পাশের গাড়িতে আছি। २७° স্বরেশ পাশের গাড়িতে গিয়া উঠিল সত্য, কিন্তু তিনি ? এই ত সে চোখ মেলিয়া নিরস্তুর বাহিরের দিকে চাহিয়া আছে—তাহার চেহারা, তা সে যত অস্পষ্টই হোক, সে কি একবারও চোখে পড়িত না ? অার এলাহাবাদের পরিবর্তে এই কিএকটা নূতন স্টেশনেই বা গাড়ি বদল করা হইল কিসের জন্ত ? জলের ছাটে তাহার মাথার চুল, তাহার গায়ের জামা সমস্ত ভিজিয়া উঠিতে লাগিল, তবুও সে খোলা জানাল দিয়া বার বার মুখ বাহির করিয়া একবার সম্মুখে একবার পশ্চাতে অন্ধকারের মধ্যে কি যে দেখিবার চেষ্টা করিতেছিল তাহা সেই জানে, কিন্তু এ-কথা তাহার মন কিছুতেই স্বীকার করিতে চাহিল না যে, এ-গাড়িতে তাহার স্বামী নাই— সে একেবারে অনন্তনির্ভর, একান্ত ও একাকী স্কুরেশের সহিত কোন এক দিধিহীন নিরুদ্ধেশ-যাত্রার পথে বাহির হইয়াছে। এমন হইতে পারে না। এই গাড়িতেই তিনি কোথাও না কোথাও আছেনই আছেন। y se