প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंश्षांश् ফেলিল, এবং তাহারই উপরে স্তৱ হইয়া বসিয়া রাস্তার উপরে লোকচলাচল দেখিতে লাগিল । ९ॐ সেই ঘরের সম্মুখে ব্যাগের উপরে বসিয়া আশা ও আশ্বাসের স্বপ্ন দেখিয়া অচলার কোথায় দিয়া যে ঘণ্টা-দুই অতিবাহিত হইয়া গেল, তাহা সে জানিতেও পারিল না। কিছুক্ষণ সূৰ্য্য উঠিয়াছে। শীতের দিনের ধূলি-ধূসরিত তরুশ্রেণী কল্যকার ঝড়-জলে স্নাত ও নিৰ্ম্মল হইয়া প্রভাতস্থৰ্য্যকিরণে ঝলমল করিতেছে। সিক্ত স্নিগ্ধ রাজপথের উপর দিয়া বিগত-ক্লেশ পান্থ প্রফুল্লমুখে চলিতে শুরু করিয়াছে ; কদাচিৎ দুই-একটা এক্কাগাড়ি ছোট ছোট ঘণ্টার শব্দে চারিদিক মুখরিত করিয়া ছুটিয়া চলিয়াছে ; মাঝে মাঝে রাখালবালকেরা গো-মহিষের দল লইয়া অদ্ভূত ও অসম্ভব আত্মীয়সম্বন্ধের অস্তিত্ব উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করিয়া কোন গ্রামপ্রান্তে যাত্রা করিয়াছে ; অদূরবর্তী কোন এক কুটাব হইতে গমভাঙা ধাতার শব্দের সঙ্গে মিশিয়া হিন্দুস্থানী গৃহস্থ-বধুর অশ্রাস্ত অপরিচিত স্বর ভাসিয়া আসিতেছে। সবযুদ্ধ লইয়া এই যে একটি নূতন দিনের কৰ্ম্ম-স্রোত তাহার চেতনায় ধীরে ধীরে গতিশীল হইয়া উঠিতেছিল, ইহারই বিচিত্র প্রবাহে তাহার দুঃখ, তাহার দুর্ভাগ্য, তাহার দুশ্চিন্তা কিছুক্ষণের নিমিত্ত কোথায় যেন ভাসিয়া গিয়াছিল। ঠিক কিসের জন্ত, কেন সে এখানে এভাবে বসিয়া, তাহার স্মরণ ছিল না। অকস্মাং মনে পড়িল জন-দুই পল্লী-বালকের বিস্থিত দৃষ্টিপাতে। তাহারা আঙ্গিনার একপ্রান্ত হইতে শুধু ধিক্ষরিতচক্ষে নিঃশব্দে চাহিয়াছিল। এই -জীর্ণ মলিন পান্থশালার প্রাচীন দিনের গৌরবের ইতিহাস ছেলে দুটোর জানা ছিল না ; কিন্তু তাহাদের জ্ঞান হওয়া অবধি এরূপ বিশিষ্ট অতিথির সমাগম যে এ-গৃহে কখনো ঘটে নাই, তাহদের নীরব চোখের চাহনি সে-কথা স্পষ্ট করিয়া অচলাকে জানাইয়া দিল । ঘুম ভাঙিয়া নিত্য-নিয়মিত খেলা করিতে আসিয়া আজ সহসা এই আশ্চৰ্য্য ব্যাপার তাহাজের চোখে পড়িয়া গিয়াছে । , অচলা চমকিয়া উঠিয়া দাড়াইয়া বোধ হয় কিছু প্রশ্ন করিতে চাহিয়াছিল, কিন্তু ছেলে দুটা নিমিষে অন্তৰ্দ্ধান হইয়া গেল। কিন্তু সেই মুহূৰ্ত্তে তাহার মনে পড়িল প্রায় ঘণ্ট-ফুঁই পূৰ্ব্বে সেই ষে স্বরেশ কাপড় ছাড়িবার নাম করিয়া পাশের ঘরে গিয়া প্রবেশ করিয়াছে, আর দেখা দেয় নাই। এতক্ষণ ধরিয়া সে একাকী কি করিতেছে জানিবার জন্ত সে তখন ধীরে ধীরে অগ্রসর হইয়া সেই কনের সম্মুখে গিা উপস্থিত ¥©