প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ শুধু ইহাতে তাহার প্রতি অচলার সমস্ত হয়ে কানায় কানায় কৃতজ্ঞতার পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল। কিছুক্ষণ এইভাবে কাটিলে স্বঘ্নেশ ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা করিল, কাছ কেন অচলা ? অচলা ভয়-কণ্ঠে বলিয়া উঠিল, কেন তুমি এমন করে শুয়ে রইলে ? কেন গেলে না ? কেন আমাকে এত ভয় দেখালে ? h তাহার কণ্ঠস্বরে যে স্নেহ উত্ত্বেলিত হইয়া উঠিল, তাহা এমনই করুণ, এমনই মধুর যে, শুধু স্বরেশের নয়, অচলার নিজের মধ্যে কেমন একপ্রকার মোহের সঞ্চার করিল। সে পুনরায় কহিল, তোমার যদি এতই ঘুম পেয়েছিল, আমাকে বললে না । কেন ? আমি ত ওদিকের বড় ঘরট পরিষ্কার করে যা হোক কিছু পেতে তোমার একটা বিছানা তৈরী করে দিতে পারতুম । ট্রেনের সময় হতে ত ঢের দেরি ছিল । সুরেশ কোনো জবাব দিল না, শুধু বিগলিত স্নেহে তাহার মুখের দিকে চাহিয়া ধীরে ধীরে হাত বাড়াইয়া অচলার ডান হাতখানি তুলিয়া নিজের উত্তপ্ত ললাটের উপর রাখিয়া কেবল একটা দীর্ঘশ্বাস মোচন করিল। - অচলা চকিত হইয়া কহিল, এ যে ভয়ানক গরম ! তোমার কি জর হয়েছে না কি ! সুরেশ কহিল, ই । তা ছাড়া এ জর সহজে সারবে বলেও আমার মনে হয় না। বোধ হয়— অচল হাতখানি আস্তে আস্তে টানিয়া লইল, এবং প্রত্যুত্তরে তাহার মুখ দিয়াও এবার কেবল একটা দীর্ঘনিশ্বাস পড়িল । তাহার উদ্বেলিত সমস্ত স্নেহ-মমতা এক মুহূৰ্বে জমিয়া যেন পাথর হইয়া গেল। সত্ত্ব করিবার, ধৈৰ্য্য ধরিবার তাহার যে কিছু শক্তি ছিল, সমস্ত একত্র করিয়া সে স্থির হইয়া আজিকার বেলাটুকু গাড়ির জন্য অপেক্ষা করিয়া থাকিবে, ইহাই সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিয়াছিল, কিন্তু এই অচিন্তনীয় ও অভাবিতপূৰ্ব্ব বিপদের মেঘে তাহার আশার ক্ষীণ রশ্মি-রেখাটুকু যখন নিমিষে অস্তহিত হইয়া গেল, তখন মৃত্যু ভিন্ন জগতে আর প্রার্থনীর বস্তু তাহার দ্বিতীয় রহিল না । ইহাকে এইভাবে এখানে একাকী ফেলিয়া যাওয়ার কথা সে কল্পনা করিতে পারিল না। কিন্তু যাহার পীড়ার সর্বপ্রকার দায়িত্ব, সমস্ত গুরুভার তাহার মাথায় পড়িল, তাহকে লইয়া এই অপরিচিত স্থানে সে কি করিবে, কোথায় কাহার কাছে কি সাহায্য ভিক্ষা চাহিবে, কি পরিচয়ে মাহুষের সহায়ুভূতি আকর্ষণ করিষে, অহৰ্নিশি কি অভিনয় করিবে, এই সকল চিন্তা বিছাবেগে তাহার মাথায় প্রবাহিত হওয়ার সে চুটিয়া পলাইবে, না ডাক ছাড়ির কাদিবে, না সজোরে মাখা কুটিয়া এই

  • ארל