প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* इंदनांह অভিশপ্ত জীবনের পালাটা হাতে হাতে চুকাইয়া দিয়া নিশিশু হইবে, ইহার কোনটারই যেন কুল-কিনারা পাইল না। \9e সেদিন স্টেশন হইতে পথে কিছু কিছু জলে ভিজিয়া কেদারবাবু সাত-আটদিন গাটের বাত ও সন্ধিজরে শয্যাগত হইয়া পড়িয়াছিলেন । কন্যা-জামাতার কুশলসংবাদের অভাবে অতিশয় চিস্তিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি জব্বলপুরের বন্ধুকে একখানা পোস্টকার্ড লেখা ভিন্ন বিশেষ কিছু করিয়া উঠিতে পারেন নাই । আজ তাহার জবাব আসিয়াছে। কেহই আসে নাই এবং তিনি কাহারও কোন খবর জানেন না, এইটুকু মাত্র খবর দিয়াছেন। ছত্ৰ কয়টি কেদারবাবু বার বার পাঠ করিয়া বিবর্ণমুখে শূন্য-দৃষ্টিতে বাহিরের দিকে চাহিয়া শুধু চশমার কাচ দুটা ঘন ঘন মুছিতে লাগিলেন। তাহাদের কি হইল, কোথায় গেল, সংবাদের জন্য তিনি কাহাকে ডাকিবেন, কোথায় চিঠি লিখিবেন, কাহার কাছে জিজ্ঞাসা করিবেন, কিছুই ভাবিয়া পাইলেন না। তাহার সকল আপদে-বিপদে যে ব্যক্তি কায়মন দিয়া সাহায্য করিত সেই স্বরেশও নাই, সে-ও সঙ্গে গিয়াছে। ঠিক এমনি সময়ে বেয়ায় আসিয়া আর একখানি পত্র তাহার স্বমুখেই রাখিয়া দিল। কেদারবাবু কোনমতে নাকের উপর চশমাখানা তুলিয়া দিয়া ব্যগ্র-হস্তে চিঠিখনি তুলিয়া দেখিলেন, চিঠি তাহার কন্যা অচলার নামে। মেয়েলি হাতের চমৎকার স্পষ্ট লেখা। এ পত্র কে লিখিল, কোথা হইতে আসিল, জানিবার আগ্রহে অপরের চিঠি খোল-না-খোলার প্রশ্ন তাহার মনে আসিল না, তাড়াতাড়ি খামখানি ছিড়িয়া ফেলিয়া প্রথমেই লেখিকার নাম পড়িয়া দেখিলেন, লেখা আছে তোমার মৃণাল’ । তাহার পর এখানিও তিনি আস্তোপাস্ত বার বার পাঠ করিয়া বাহিরের দিকে শূন্ত-দৃষ্টিতে চাহিয়া চশমা-মোছার কাজে লাগিলেন। তাহার মনের মধ্যে যে কি করিতে লাগিল তাহা জগদীশ্বর জানেন। বহুক্ষণে চশমা পরিষ্কারের কাজটা স্থগিত রাখিয়া পুনরায় তাহা যথাস্থানে স্থাপিত করিয়া আর একবার চিঠিখানি আগাগোড়া পড়িতে প্রবৃত্ত হইলেন। মৃণাল স্ত্রীর সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, ধৈৰ্য্য প্রভৃতি সম্বন্ধে তীর মধুর বহুপ্রকার উপদেশ দিয়া শেষের দিকে লিখিয়াছে— সেজদা তোমার সম্বন্ধে কিছুই বলেন না সত্য, জিজ্ঞাসা করিলেও ভয়ানক গষ্ঠীর হইয় উঠেন বটে, কিন্তু আমি ত মেয়েমানুষ, আমি ত সব বুঝিতে পারি। আচ্ছা »e.