প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাহ উঠলেন । এটা তোমার মাথায় ঢুকল না রাঙ্গুণী, যারা টিকিট কিনে জব্বলপুর যাত্রা করে বেরিয়েছেন, তারা হঠাৎ গাড়ি বদল করে এদিকেই বা ফিরবেন কেন, আর পীড়িত স্বামী নিয়ে কোন বাঙালীর বাড়িতে না উঠে ওই অতদূরে হিন্দুস্থানী পল্লীতে একটা ভাঙা সরাইয়ের মধ্যে গিয়েই বা হাজির হবেন কেন ? বলিতে বলিতেই বীণাপাণি অকস্মাং পাশ্বে হেলিয়া অচলার গলা জড়াইয়া ধরিল এবং স্নেহে প্রেমে বিগলিত হইয়া তাহার কানের কাছে মুখ আনিয়া অফুট কণ্ঠে কহিল, বল না দিদি, কি হয়েছিল ? আমি কোনদিন কাউকে কোন কথা বলব না—এই তোমাকে ছুয়ে আজ আমি দিব্যি করচি । বীণাপাণির মুখে তাহাদের সম্বন্ধে এই সত্য আবিষ্কারের মিথ্যে ইতিহাস শুনিয়া অচলার সমস্ত দেহটা যেন প্রকাগু অচেতন পদার্থের মত সর্থীর আলিঙ্গমের মধ্যে. ঢলিয়া পড়িল। ইহজীবনের চরম লজ্জ মূৰ্ত্তি ধরিয়া এক-পা এক-পা করিয়া যে কোথায় অগ্রসর হইয়া আপিয়াছে, তাহা সে চাহিয়া দেখিতেছিল, কিন্তু সে যখন অত্যন্ত অকস্মাং অচিন্তনীয়রূপে মুখ ফিরাইয়া আর এক পথে চলিয়া গেল, তাহাকে পশমাত্র করিল না, তখন এই বিপুল সৌভাগ্যকে বহন করিবার মত শক্তি আর তাহাতে ছিল না। শুধু দুই চক্ষের অবিশ্রাস্ত অশ্রুপ্রবাহ ব্যতীত বহুক্ষণ পৰ্য্যস্ত কোথাও জীবনের কোন লক্ষণ আর তাহার মধ্যে অনুভূত হইল না । এমন কতক্ষণ কাটিল । বীণাপাণি আপন অঞ্চলে বার বার করিয়া অচলার চোখের জল মুছাইয়া দিয়া সক্ষেহে করুণশ্বরে কহিল, স্বরমাদিদি, তুমি বয়সে বড় হলেও ছোটবোনের কথাটা রাখে ভাই, এইবার বাড়ি ফিরে যাও । আমি বলচি, এ-যাত্রা তোমাদের স্থযাত্রা নয়। অনেক দুঃখে হাতের নোয়াটা যদি বজায় রয়েই গেছে দিদি, তখন অভিমান করে আর গুরুজনদের দুঃখ দিয়ে না, আর তাদের ভাবিয়ে না। হেঁট হয়ে শ্বশুর-ঘরে ফিরে যেতে কোন লজ্জা, কোন অগৌরব নেই দিদি । ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া সে পুনরায় কহিল, চুপ করে রইলে যে ভাই। যাবে না ? মা-বাপের ওপর রাগ করে বাড়ি ছেড়ে স্বরেশবাবু কখনো ভাল নেই। তোমার মুখ থেকে এ কথা শুনলে তিনি খুশীই হবেন, এ তোমাকে আমি নিশ্চয় ৰলচি। অচলা চোখ মুছিয়া এইবার সোজা হইয়া বসিল । চাহিয়া দেখিল, বীণাপাশি তেমনি উৎসুক-মুখে তাহার প্রতি চাহিয়া আছে। প্রথমটা উত্তর দিতে তাহার অতিশয় লজ্জা করিতে লাগিল, কিন্তু শুদ্ধমাত্র নির্বাক্ রহিয়াই বে ওই মেন্থেটির কাছে মুক্তি পাওয়া যাইবে না, তাহাতে যখন আর কোন সংশয় রছিল না, তখন সমস্ত সংকোচ জোর করিয়া পরিত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে কহিল, আমাদের বাড়ি ফিরে যাবার কোন পথ নাই বীণা ৷ • 2. לילל