প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাই কথা শুনিয়া অচলার মুখ পাণ্ডুর হইয়া গেল, কিন্তু মুরেশের মুখের উপরেও কে যেন কালি লেপিয়া দিল । সে নিৰ্ব্বাক্ কাঠের পুতুলের মত মেয়েটির পানে চাহিয়া স্থির হইয়া বসিয়া রহিল। 8 সুরেশের একবার মনে হইল, তাহার নিষ্ঠুর সত্য অচলার বুকের ভিতর গিয়া যেন গভীর হইয়া বিধিল, কিন্তু পিতা সেদিকে দৃকপাতও করিলেন না। বরঞ্চ কন্যাকেই ইঙ্গিত করিয়া বলিতে লাগিলেন, সুরেশবাবু, আপনি যে প্রকৃত বন্ধুর কৰ্ত্তব্য করতে এসেচেন, একথা আমরা কেউ যেন ভ্ৰমেও না অবিশ্বাস করি । হোক না অপ্রিয়, হোক না কঠোর, তবুও এই যথার্থ ভালবাসা । মা যখন তার পীড়িত শিশুকে অন্ন থেকে বঞ্চিত করেন, সে কি তার কঠোর ঠেকে না ? কিন্তু তবুও ত সে কাজ তাকে করতে হয় । সত্য বলচি সুরেশবাবু, মহিম যে আমাদের প্রতি এত বড় অন্যায় করতে পারেন, এ আমি স্বপ্নেও ভাবিনি, বছর-দুই পূৰ্ব্বে সমাজে যখন র্তার কথায় ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে আমি নিজেই তাকে সমৰ্ম্মানে বাড়িতে ডেকে এনে অচলার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই, সে কি এমনি করেই তার প্রতিফল দিলে! উঃ-এত বড় প্রবঞ্চনা আমার জীবনে দেখিনি। বলিয়া কেদারবাবু ভিতরের আবেগে উঠিয়া ঘরের মধ্যে পায়চারি করিতে লাগিলেন । স্কুরেশ এবং অচলা উভয়েই নীরবে এবং অধোমুখে বসিয়া রছিল । কেদারবাবু হঠাৎ একসময়ে দাড়াইয়া পড়িয়া, মেয়েকে উদ্দেশ করিয়া বলিয়া উঠিলেন, ন ম অচলা, এ চলবে না। কোনমতেই না । সুরেশবাবু, আপনি যেমন কৰ্ত্তব্য সকলের উপরে রেখে বন্ধুর কাজ করতে এসেচেন, আমিও সেই কৰ্ত্তব্যকেই স্বমুখে রেখে পিতার কাজ করব । অচলার সঙ্গে মহিমের সম্বন্ধটা যতদূর অগ্রসর হয়েচে, তাতে যদি বিনা প্রমাণে আমার বাড়ির দরজা তার মুখের উপর বন্ধ করে দিই, ঠিক হবে না । সেইজন্য একটা প্রমাণ চাই । আপনি মনে করবেন না স্বরেশবাবু, আপনার কথা আমরা বিশ্বাস করতে পারিনি, কিন্তু এটাও আমার কৰ্ত্তব্য । কি, মা অচলা ! একটা প্রমাণ নেওয়া আমাদের উচিত কি না ? উভয়েই তেমনি নীরবে বসিয়া রহিল, উচিত অনুচিত কোন মন্তব্যই কেহ প্রকাশ করিল না । কেদারবাবু ক্ষণকাল অপেক্ষা করিয়াই বলিলেন, কিন্তু এ প্রমাণের ভার আপনারই উপর, স্বরেশবাবু মহিমের সাংসারিক অবস্থা জানা ত দূরের কথা ; কোন গ্রামে যে তার বাড়ি তাই আমরা জানিনে । + } }