প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৯৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰই করতে হবে। বরঞ্চ, ধার সঙ্গে তুমি ধৰ্ম্ম ভাগ করে নিয়েচ মা, তিনি যখন হিন্দু, র্তার গলায় যখন যজ্ঞোপবীত শোভা পাচ্চে, তিনি যখন ওই স্থতো ক’গাছার এখনো অপমান করেন নি, তখন বাপের কৰ্ম্ম ত তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না । হাসিয়া বলিলেন, দেরি হয়ে যাচ্ছে, এখন যাই। কিন্তু তুমি যত ফন্দিই কয় না, জয়ম, বুড়ে জ্যাঠামশাইকে আজ আর ফাকি দিতে পারচ না। আজ তোমাকে রোধে ভাত দিতেই হবে। তাই বাপের শিক্ষার গুণে সেদিন উপোস করতে চাওনি বটে ! আজ তার স্বদ-মৃদ্ধ উস্কল করে তবে ছাড়বো । এই বলিয়া তিনি পুনরায় চলিয়া যান দেখিয়া অচলা এতক্ষণ পরে তাহার অভিভূত ভাবটাকে এক নিমিবে অতিক্রম করিয়া গেল। মুম্পষ্ট কণ্ঠে বলিল, আচ্ছা জ্যাঠামশাই, আমি ব্রাক্ষ-মহিলা হলে আপনি আমার হাতে থাবেন না ? বৃদ্ধ বলিলেন, না। কিন্তু সে ত তুমি নও। সে ত তুমি হতে পার না। অচলা প্রশ্ন করিল, কিন্তু তাও যদি হ’তে, তা হ’লে কি শুধু আমার ধর্মমতটা আলাদা ব’লেই আমি আপনার কাছে অস্পৃশু হয়ে যেতুম ? { বৃদ্ধ বলিলেন, অস্পৃপ্ত হবে কেন মা, অস্পৃশু নয়। কিন্তু তোমার হাতে খেতে পারতাম না । এ-সম্বন্ধে আজ তাহার অনেক কথাই জানা প্রয়োজন ! তাই সে চুপ করিয়া থাকিতে পারিল না ; কহিল, কেন পারতেন না, সে কি ঘৃণায় ? বৃদ্ধ সহসা কোন উত্তর দিতে পারিলেন না, কেবল একদৃষ্টে মেয়েটির মুখের প্রতি চাহিয়া রহিলেন । অচলা সমস্ত সঙ্কোচ ত্যাগ করিয়াছিল, বলিল, জ্যাঠামশাই, আপনার মায়া-দয়া যে কত বড়, তার অনেক সাক্ষী এ-পৃথিবীতে আছে জানি, কিন্তু আমাদের চেয়ে বড় সাক্ষী আর কেউ নেই। তবে আপনার মত মানুষের মন যে কেমন করে এত অনুদার হতে পারে, তাই আমি ভেবে পাইনে। আপনি কি করে মানুষকে এমন ঘৃণা করতে পারেন ? , - বৃদ্ধ অকস্মাং ব্যাকুল হইয়া বলিয়া উঠিলেন, আমি ঘৃণা করি ? কাকে মা ? কখন মা ? অচলা বলিল, যার হাতের ছোয় আপনার অস্পৃগু, সেই আপনার স্বশার পারে—তাকেই আপনি মনে মনে ঘৃণা করেন। আর ঘৃণা যে করেন, তাও দীর্ঘদিনের অভ্যাসে ভুলে গেছেন। আমাদের ওই হিন্দুস্থানী চাকরটার কথা ছেড়ে দিন, পাচকটার হাতের রান্নাও যে কোনমতেই আপনার গলা দিয়ে গলবে না লেও আপনি নিজের মুখেই প্রকাশ করেচেন। এতে দেশের কত ক্ষতি, কত অবনতি হয়েচে সে ত— - . . ." - * * 沙霉●