প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ জচলা মনে মনে অতিশয় বিস্থিত হইল। এ বাড়িতেও যে এ-সকল আলোচনা কোন অবকাশ দিয়া পথ পাইতে পারে, এ তাহার ধারণাই ছিল না। কহিল, কথাটা কি তবে মিথ্যে ? রামবাৰু একটু হাসিয়া বলিলেন, মিথ্যে কি না, সে জবাব নাই দিলাম মা ; কিন্তু সত্যি নয়। শাস্ত্রের বিধিনিয়ম মেনে চলি, এইমাত্র। যারা আরও একটু বেশি যায়—এই যেমন আমার গুরুদেব, তিনি নিজে রোধে খান, মেয়েকে পর্য্যস্ত হাত দিতে দেন না। তাই থেকে কি এই স্থির করা যায়, তিনি র্তার একমাত্র সস্তানকে স্বগা করেন । অচলা জবাব দিতে না পারিয়া মৌন হইয়া রহিল। বৃদ্ধ হ’কাটায় আর গোটা-কতক টান দিয়া বলিলেন, মা, যৌবনে আমি অনেক দেশ ঘুরে বেড়িয়েচি। কত-বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, আর কতরকমের লোক, কন্তরকমের আচাৰ-ব্যবহার, সে-সব নাম হয়ত তোমরা গুণন না—কোথাও খাওয়া-ছোয়ার বিচার আছে, কোথাও বা তার আভাস পর্য্যত্ব *োনেনি, তবু স্ত য, তারা চিরদিন তেমনি অসভ্য, তেমনি ছোট, বলিয়া দগ্ধ কোটায় পুনরায় গোটা-দুই নিষ্ফল টান দিয়া বৃদ্ধ শেষবারের মত সেটাকে থামের কোণে ঠেস দিয়া BBBBS BB BB BBB BBB BBS BBD DBBD BBB রছিল । রামবাবু নিজেও খানিকক্ষণ শুদ্ধভাবে থাকিয় সোজ হইয় বসিয়া বলিঙ্কেন, আসিল কথা জান ফুরমা, তোমরা সাহেবদের কাছে পাঠ নিয়েচ । তারা উন্নত, তার রাজা, তারা ধনী। তাদের মধ্যে যদি পা উচু করে হাতে চলার ব্যবস্থা থাকত, তোমরা বলতে, ঠিক আমনি করে চলতে না শিখলে আর উন্নতির কোন আশা-ভরসাই নেই । এই সকল তর্ক-যুক্তি আচল বাংলা দৈনিক কাগজে অনেক পড়িয়াছে, তাই কোন কথা না বলিয়া শুধু একটু হাসিল । হাসিটুকু বৃদ্ধ দেখিলেন, কিন্তু যেন দেখিতে পান নাই, এইভাবে নিজের পুনরাবৃত্তিস্বরূপ কহিতে লাগিলেন, খ্ৰীধাম শ্ৰীক্ষেত্রে যখন যাই, তখন জানা-অজানা কত লোকের মধ্যে গিয়েই না পড়ি । ছোয়াছুয়ির বিচার সেখানে নেই, করবার কথাও কখনো মনে হয় না ; কিন্তু ঘূণার মধ্যে এর জন্ম হলে কি এত সহজে সে কাজ পেরে উঠতাম ! এই ত আমি কারও হাতেই প্রায় থাইনে, কিন্তু পথের অতিবড় দীন-দুঃখীকেও যে কখনো মনে মনে ঘৃণা করেচি– আচল ব্যগ্র ব্যাকুল-কণ্ঠে বাধা দিয়া বলিয়া উঠিল, আমি কি আপনাকে জানিমে জ্যাঠামশাই ? এত দয়া সংসারে আর করি আছে ? $38