প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\Og একটা কোচের উপর সুরেশ চক্ষু মুদিয়া শুইয়াছিল এবং সন্নিকটে একখানা চৌকি টানিয়া বৃদ্ধ রামবাৰু তাহার পীড়িত বক্ষে অগ্নির উত্তাপ দিতেছিলেন, এমন সময়ে উভয়ের দ্বার খোলার শব্দে চাহিয়া দেখিলেন, আচল প্রবেশ করিতেছে। সে বিনা আড়ম্বরে কহিল, রাত অনেক হয়েচে, জ্যাঠামশাই, আপনি শুতে যান। সেইজন্যেই ত অপেক্ষা করে আছি মা, বলিয়া বৃদ্ধ চট করিয়া উঠিয়া পড়িলেন, এবং স্বরেশকে লক্ষ্য করিয়া কহিলেন, এতক্ষণ দু’জনেরই শুধু কেবল বিড়ম্বন ভোগ হ’ল বৈ ত নয়। এ-সব কাজ কি আমরা পারি? অচলার প্রতি চেয়ারটা ঈষৎ অগ্রসর করিয়া দিয়া বলিলেন, যার কৰ্ম্ম তাকে সাজে মা, এই নাও, ব’লো—আমি— একটু হাত-পা ছড়িয়ে বাচি । বলিয়া বৃদ্ধ বিপুল শ্রান্তির ভারে মস্ত একটা হাই তুলিয়া গোট-দুই তুড়ি দিয়া ছ’কাটা তুলিয়া লইলেন, এবং ঘরের বাহির হইয়া সাবধানে দরজা বন্ধ করিতে করিতে সহাস্তে কহিলেন, ঢুলতে দুলতে যে হাত-পা পুড়িয়ে বসিনি সেই ভাগ্য, কি বলেন স্বরেশবাৰু? স্বরেশ কোন কথা কহিল না, শুধু নিৰ্মীলিত নেত্রের উপর দুই হাত যুক্ত করিয়া একটা নমস্কার করিল। অচলা নীরবে তাহার পরিত্যক্ত আসনটি অধিকার করিয়া বসিল এবং সেক দিবার ফ্রানেলটা উত্তপ্ত করিতে করিতে ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা করিল, আবার ব্যথা হ’লো কেন ? কোনখানটায় বোধ হচ্চে ? স্বরেশ চোখ মেলিল না, উত্তর দিল না, শুধু হাত তুলিয়া বক্ষের বাম দিকটা নির্দেশ করিয়া দেখাইল। আবার সমস্ত নিস্তব্ধ । সে এমনি যে, মনে হইতে লাগিল, বুঝিবা এই নিৰ্ব্বাক অভিনয়ের শেষ অঙ্ক পর্যন্ত এমনি নীরবেই সমাপ্ত হইবে। কিন্তু সেরূপ ঘটিল না। সহসা অচলার ফ্রানেলশুদ্ধ হাতখানা স্বরেশ তাহার বুকের উপর চাপিয়া ধরিল। অচলার মুখের উপর উদ্বেগের কোন চিহ্ন প্রকাশ পাইল না ; সে ইহাই যেন প্রত্যাশা করিতেছিল, কেবল কহিল, ছাড়ো, আরও একটু গেক দিয়ে দিই । স্বরেশ হাত ছাড়িয়া দিল, কিন্তু চক্ষের পলকে উঠিয়া বসিয়া দুই ব্যগ্র বাছ বাড়াইয়া অচলাকে তাহার আসন হইতে টানিয়া আনিয়া নিজের বুকের উপর সজোরে চাপিয়া ধরিয়া অজস্র চুম্বনে একেবারে আচ্ছন্ন অভিভূত করিয়া ফেলিল। এক মুহূৰ্ত্ত পূৰ্ব্বে যেমন মনে হইয়াছিল, এই আবেগ-উচ্ছ্বাসহীন নাটকের পরিসমাপ্তি হয়ত এমনি নিম্পদ মৌনতার ভিতর দিয়াই ঘটবে, কিন্তু নিমেষ না গত হইতেই আবার বোধ হইতে লাগিল, এই উন্মত্ত নিলাজ তার বুঝি সীমা নাই, শেষ নাই, డిఙ)