প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


शृश्नांझ् এই প্রচ্ছন্ন অভিলাষ অনুমান করিতে পারিল না। তাই প্রশ্নটার সোজা জবাব দিয়াই চুপ করিয়া রহিল। স্বরেশ ক্ষুন্ন হইয়া কহিল, আপনাদের প্রতি আমার সামাজিক বিদ্বেষ আছে কিনা, সে আলোচনা মহিম করুক ; কিন্তু তার ওপর আমার যে লেশমাত্র বিদ্বেষ নেই, এ-কথাটা আপনি আমার মুখ থেকেও অবিশ্বাস করবেন না। তবুও হয়ত আমি তার সাংসারিক প্রসঙ্গ এখানে তুলতে আসতাম না—যদি না সে আমার কাছে সেদিন সত্য কথাটা অস্বীকার করত। অচলা মুরেশের মুখের উপর স্থির দৃষ্টি রাখিয়া অবিচলিত-স্বরে কহিল, কিন্তু তিনি ত কখনই মিথ্যা বলেন না । এই বার স্বরেশ বাস্তবিক বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হইয়া গেল। মেয়েমানুষের মুখ দিয়া যে এমন শান্ত অথচ দৃঢ় প্রতিবাদ বাহির হইতে পারে, ক্ষণকাল ইহা যেন ভাবিয়াই পাইল না। কিন্তু সে ঐ মূহূৰ্ত্তকালের জন্য। জীবনে সে সংযমশিক্ষা করে নাই, তাই পরক্ষণেই আত্মবিস্তুত হইয়া রুক্ষস্বরে বলিয়া উঠিল, আমাকে মাপ করবেন, কিন্তু সে আমার বাল্যবন্ধু । আপনার চেয়ে তাকে আমি কম জানিনে । এখানে নিজেকে আবদ্ধ করে স্পষ্ট অস্বীকার করাটাকে অমি সত্যবাদিত বলতে পারিনে । অচলা তেমনি শাস্ত মৃদুকণ্ঠে বলিল, তিনি ত এখানে নিজেকে আবদ্ধ করেননি । সুরেশ কহিল, আপনার বাবা ত তাই বললেন । তা ছাড়া নিজের হীন অবস্থা আপনাদের কাছে গোপন করাটাকেও ঠিক সত্যপ্রিয়তা বলা চলে না । স্ত্রীপুত্র প্রতিপালন করবার অক্ষমতা অপরের কাছে না হোক, অতঃপর আপনার কাছেও ত তার অকপটে প্রকাশ করা উচিত ছিল । অচলা নীরব হইয়া রহিল । স্বরেশ বলিতে লাগিল, আপনি যে এত করে তার দোষ ঢাকচেন, আপনি বলুন দেখি, সমস্ত কথা পূৰ্ব্বাহ্লে জানতে পারলে কি তাকে এতটা প্রশ্ৰয় দিতে পারতেন ? অচলা তেমনি নীরবে বসিয়া রহিল । তাহার কাছে কোন প্রকার জবাব না পাইয়া স্বরেশ অধিকতর উত্তেজিত হইয়া কহিতে লাগিল, আমার কাছে সে নিজের মুখে স্বীকার করেচে যে, এই কলকাতা সহরে আপনাকে প্রতিপালন করবার তার সাধ্যও নেই, সঙ্কল্পও নেই। তার সেই ক্ষুদ্র সঙ্কীর্ণ গ্রামে একটা অত্যন্ত বিরুদ্ধ হিন্দুসমাজের মধ্যে সে যে আপনাকে একখানা অস্বচ্ছল ভাঙা মেটে-বাড়িতে টেনে নিয়ে যেতে চায়, সে কথা কি আপনাকে তার বলা কৰ্ত্তব্য নয়। এত দুঃখ সহ্য করতে প্রস্তুত কি-না, এও কি জিজ্ঞাসা করা সে আবশ্বক বিবেচনা করে না ? বলিয়া va