প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ একটা হেতু খুজিয়া পাইয়াছিলেন ; সেদিন নিশ্চয়ই মনে হইয়াছিল, স্বরেশ ব্রাহ্মধরে বিবাহ করিয়াই এই বিপত্তি ঘটাইয়াছে, তাহাতে আর কোন সন্দেহ নাই। ক্রমশঃ এই বিশ্বাসই তাহার মধ্যে বদ্ধমূল হইয়া গিয়াছিল। এই বৃদ্ধ লোকটি সত্যই হিন্দু ছিলেন, তাই হিন্দুধর্মের নিষ্ঠাকেই তিনি পাইয়াছিলেন, ইহার নিষ্ঠুরতাকে পান নাই। ব্রাহ্মণ-সন্তান স্বরেশের এই দুৰ্গতি না ঘটিলেই তিনি খুশী হইতেন, কিন্তু এই যে ভালবাসার বিবাহ, এই যে আত্মীয়-স্বজনের বিচ্ছেদ, এই যে লুকোচুরি, ইহার সৌন্দৰ্য্য, ইহার মাধুর্ঘ্য ভিতরে ভিতরে তাহাকে ভারি মুগ্ধ করিত। ইহাকে না জানিয়া প্রশ্রয় দিতে যেন সমস্ত মন তাহার রসে ডুবিয়া যাইত। তাই যখনই এই দুটি বিদ্রোহী প্রণয়ীর প্রণয়-অভিমান তাহার কাছে মাঝে মাঝে মনোমালিন্তের আকারে প্রকাশ পাইত, তখন অতিশয় ব্যথার সহিত তাহার এই কথাটাই মনে হইত, পরগৃহের অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ সঙ্কুচিত গণ্ডীর মধ্যে ষে মিলন কেবল ঠোকাঠুকি খাইতেছে, তাহাই হয়ত নিজের বাটার স্বাধীন ও প্রশস্ত অবকাশে সংসারের অসংখ্য কাজে ও অকাজে শান্তি ও সামঞ্জস্তে স্থিতিলাভ করিবে । র্তাহার স্নানের সময় হইয়াছিল, গামছাট কাধে ফেলিয়া নদীর পথে অগ্রসর হইয়া চলিতে চলিতে মনে মনে হাসিয়া বার বার বলিতে লাগিলেন, মা, যাবার সময় এই বুড়োটার উপর অভিমান করেই গেলে । ভাবলে, আপনার লোকের খাতিরে জ্যাঠামশাই আমাদের বাড়িতে জায়গা দিলে না ! কিন্তু দু-চারদিন পরে যেদিন গিয়ে দেখতে পাবো, চোখে-মুখে হাসি আর আঁটচে না, সেদিন এর শোধ নেব । সেদিন বলব, এই বুড়োটার মাথার দিব্যি রইল মা, সত্য করে বল দেখি, আগেকার রাগের মাত্রাট এখন কতখানি আছে ? দেখব বেটি কি জবাব দেয় । বলিয়া প্রশাস্ত নিৰ্ম্মল হাস্তে তাহার সমস্ত মুখ উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল। তিনি মনে মনে স্পষ্ট দেখিতে পাইলেন, স্বরম মুখ টিপিয়া হাসিয়া কাজের ছুতা করিয়া চলিয়া গেল, কিন্তু পরক্ষণেই থালায় সন্দেশ লইয়া ফিরিয়া আসিয়া মুখ অসম্ভব গম্ভীর করিয়া বলিতে লাগিল, আমার হাতের তৈরি মিষ্টি যদি না খান জ্যাঠামশাই ত সত্যিসত্যিই ভারি ঝগড়া হয়ে যাবে | স্নানাস্তে জলে দাড়াইয়া গঙ্গাস্তোত্র আবৃত্তি করার মাঝে মাঝেও মেয়েটার সেই লুকাইবার চেষ্টাকে শাক দিয়া মাছ ঢাকার সঙ্গে তুলনা করিয়া বুড়ার ভারি হালি পাইতে লাগিল এবং অস্তরের মধ্যে যে ক্ষোভ গতরাত্রি হইতে নিরস্তর বাড়িয়াই চলিয়াছিল, তাহ সান্ধ্যাঙ্কিক সারিয়া ফিরিবার পথেই কল্পনার স্নিগ্ধ বর্ষণে জুড়াইয়া छण श्ब्र! cनल । কাল সকালেই সকলে পৌছিবেন, তার আসিয়াছে। সঙ্গে রাজকুমার নাতি 為>●