প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ উত্তরের জন্য চোখ তুলিয়া দেখিল, অচলা চিন্তিত, অধোমুখে স্থির হইয়া বসিয়া আছে । জবাব না পাইলেও সুরেশ বুঝিল, তাহার কথায় কাজ হইয়াছে। কহিল, দেখুন, আপনার কাছে এখন আমি সত্য কথাই বলব। আজ আমি আমার বন্ধুকে বাচাবার সঙ্কল্প করেই শুধু এসেছিলুম—সে বিপদে না পড়ে, এই ছিল আমার একমাত্র উদ্বেষ্ঠ | কিন্তু এখন দেখচি, তাকে বাচালের চেয়ে আপনাকে বাঁচানো আমার ঢের বেশি কৰ্ত্তব্য । কারণ, তার বিপদ ইচ্ছাকৃত, কিন্তু আপনি বাপ দিচ্ছেন অন্ধকারে । এইমাত্র আপনার বাবা যখন আমাকেই প্রমাণ করবার ভর দিলেন তখন মনে হয়েছিল, বন্ধুর বিরুদ্ধে এ ভার আমি গ্রহণ করল না ; কিন্তু এখন দেখচি, এ কাজ আমাকে করতেই হবে—না করলে অন্যায় হবে । অচলা কহিল, কিন্তু তিনি শুনলে কি দুঃখিত হবেন না ? সুরেশ কহিল, উপায় নেই । যে লোক পাষণ্ডের মত আপনাকে এত বড় প্রবঞ্চনা করেচে, বন্ধু হলেও তার সুখ-দুঃখ চিন্তা করার প্রয়োজন মনে কারনে। কিন্তু বিপদ হয়েচে এই যে, আমি তাদের গ্রামের নামটাও জানিনে। কোন উপায়ে আজ যদি সেইটে মাত্র জানতে পাই, কাল সকলেই নিজে গিয়ে সেখানে উপস্থিত হব এবং সমস্ত প্রমাণ টেনে এনে আপনার বাবার সন্মুখে উপস্থিত করে বন্ধুর পাপের প্রায়শ্চিত্ত করব । অচলা কহিল, আপনি কেন এত কষ্ট করবেন ? বাবাকে বলুন না, তিনি তার বিশ্বাসী কোন লোক দিয়ে সমস্ত সংবাদ জেনে নিন। চব্বিশ পরগণার রাজপুর গ্রাম ত বেশি দূর নয় । সুরেশ আশ্চৰ্য্য হইয়া বলিল, রাজপুর । তা হলে গ্রামের নামটা যে আপনি জানেন দেখচি! আর কিছু জানেন ? অচলা সহজভাবে কহিল, আপনি যা বললেন, আমিও ঐটুকু জানি । রাজপুরের উত্তরপাড়ায় একখানি মেটে-বাড়ি আছে। গুটি-তিনেক ঘর, বাইরে চণ্ডীমণ্ডপ— তাতে গ্রামের পাঠশালা বসে । সুরেশ জিজ্ঞাসা করিল, মহিমের সাংসারিক অবস্থা ? অচলা কহিল, সে বিষয়েও আপনি যা বললেন তাই। সামান্ত কিছু সম্পত্তি আছে, তাতে কোনমতে দুঃখ-কষ্টে গ্রাসাচ্ছাদন চলে মাত্র । মুরেশ কহিল, আপনি ত তা হলে সমস্তই জানেন দেখচি । অচলা কহিল, এইটুকু জানি, কারণ এইটুকুই তাকে একদিন জিজ্ঞাসা করেছিলুম। আর আপনি ত জানেন, তিনি কখনো মিথ্যা বলেন না । সুরেশ সমস্ত মুখ কালিবর্ণ করিয়া কহিল, যখন সমস্তই জানেন, তখন আপনাদের $8