প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ লাগিল, কেহই কোন কথা কহিল না, পাশা-পাশি বসিয়া দু’জনেই দুইদিকে খোলা জানাল দিয়া বাহিরের দিকে চাহিয়া রহিল। বাগানের গেট পার হইয়া গাড়ি যখন রাস্তায় আসিয়া পড়িল, তখন সুরেশ আস্তে আস্তে ডাকিল, অচল । ८कन ? আজকাল আমি কি ভাবি জানো ? 1 | এতকাল যা ভেবে এসেচি ঠিক তার উন্টে। তখন ভাবতুম কি করে তোমাকে পাবো ; এখন অহৰ্নিশি চিন্তা করি, কি উপায়ে তোমাকে মুক্তি দেব। তোমার ভার যেন আমি আর বইতে পারিনে । এই অচিন্ত্যপূর্ব একান্ত নিষ্ঠুর আঘাতের গুরুত্বে ক্ষণকালের জন্য অচলার সমস্ত দেহ-মন একেবারে অসাড় হইয়া গেল। ঠিক যে বিশ্বাস করিতে পারিল তাহাও নয়, তথাপি অভিভূতের স্থায় বসিয়া থাকিয়া অফুটম্বরে কহিল, আমি জানতুম। কিন্তু এ ত— স্বরেশ বলিল, ই, আমারই ভুল ; তোমরা যাকে বল পাপের ফল। কিন্তু তবুও কথাটা সত্য। মন ছাড়া ৰে দেহ, তার বোঝা এমন অসহ ভারী, এ স্বপ্নেও ভাবিনি । মচলা চোখ তুলিয়া কহিল, তুমি কি আমাকে ফেলে চলে যাবে? স্বরেশ লেশমাত্র দ্বিধা না করিয়া জবাব দিল, বেশ, ধর তাই । ওই নিঃসঙ্কোচ উত্তর শুনিয়া অচলা একেবারে নীরব হইয়া গেল ! তাহার রুদ্ধ হৃদয় মথিত করিয়া কেবল এই কথাটাই চারিদিকে মাখা কুটিয়া ফিরিতে লাগিল, এ সেই সুরেশ ! এ সেই স্বরেশ । আজ ইহারই কাছে সে দুঃসহ বোঝা, আজ সেই-ই তাহাকে ফেলিয়া যাইতে চাহে ! কথাটা মুখের উপর উচ্চারণ করিতেও আজ তাহার কোথাও বাধিল না । অথচ পরমাশ্চৰ্য্য এই যে, এই লোকটিই তাহার সীমাহীন দুঃখের মূল ! কাল পৰ্য্যন্ত ইহার বাতাসে সমস্ত দেহ বিষে ভরিয়া গিয়াছে ! মেঘাবৃত অপরাহ্ল আকাশতলে নির্জন রাজপথ প্রতিধ্বনিত করিয়া গাড়ি ক্রত বেগে ছুটিয়াছে, তাহারই মধ্যে বসিয়া এই দুটি নর-নারী একেবারে নির্বাক্। স্বৱেশ কি ভাবিতেছিল সেই জানে, কিন্তু তাহার উচ্চারিত বাক্যের কল্পনাতীত নিষ্ঠুরতাকে অতিক্ৰম করিয়াও নতুন ভয়ে অচলার সমস্ত মন পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল। স্বরেশ নাই—সে একা । এই একাকিত্ব যে কত বৃহৎ, কিরূপ আকুল, তাহা বিছাজেগে তাহার মনের মধ্যে থেলিয়া গেল। অদৃষ্টের বিড়ম্বনায় ষে তরুণী বাহিয়া ষে সংসাৰ ३५***