প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰই না ; মনে হইতে লাগিল, সহসা যেন তন্দ্রাচ্ছন্ন হইয়া পড়িয়াছে। উদ্বিগ্ন অচলা তাহার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করিতে যাইতেছিল, স্বরেণ চোখ মেলিয়া অত্যন্ত সহজভাবে কহিল, এখনও তোমাকে আমার আসল কথাটাই বগা হয়নি অচলা, আমি মরতে বসেচিআমার বাঁচবার বোধ করি আর কোন সম্ভাবনাই নেই। প্রত্যুত্তরে শুধু একটা অফুট অব্যক্ত কণ্ঠস্বর অচলার গলা হইতে বাহির হইয়া আসিল, তার পরেই সে মূৰ্ত্তির মত নিম্পদ হইয়া বসিয়া রহিল। সুরেশ বলিতে লাগিল, আগে থেকেই আমি উইল করে রেখেচি বটে, কিন্তু কেউ যদি মনে করে, আমি ইচ্ছে করে মরচি, সে অঙ্কায়, সে মিথ্যা—সে আমার মরার বেশি ব্যথা হবে। আমি সতর্কতার এতটুকু ক্রটি করিনি, কিন্তু কাজে লাগল না। যদি কখনো তোমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করে, তাদের তুমি এই কথাটা বলে। যে, সংসারে আরও পাঁচজনের যেমন মৃত্যু হয় তার ও তেমনি হয়েচে—মরণকে কেবল এড়াতে পারেন নি বলেই মরেচেন, নইলে মরবার ইচ্ছে র্তার ছিল না । মরণের মধ্যে আমার কোন হাত, কোন বিশেষত্ব ছিল, এই অপরাধটা আমাকে যেন কেউ না দেয় । অচলা কিছুই বলিল না। কথা কহিবার শক্তি যে তাহার শুকাইয়া গিয়াছিল, এ-কথা সেই প্রায়ান্ধকারের মধ্যে তাহার ভয়াৰ্ত্ত মুখের প্রতি চাহিয়া স্বরেশ ধরিতে পারিল না। ক্ষণকাল আপনাকে সে সংবরণ করিয়া লইয়া পুনরায় বলিতে লাগিল, আমি না এসে থাকতে পারিনে বলেই তোমাকে লুকিয়ে সেদিন ভোরবেলায় পালিয়ে এসেছিলুম। এসে দেখি, গ্রাম প্রায় শূন্ত । এ-বাড়িতে একটা চাকর মরেচে এবং তার কোন গতি না করেই বাড়িমৃদ্ধ সবাই পালাতে উষ্ঠত হয়েচে । তাদের নিরস্ত করতে পারলুম না বটে, কিন্তু মড়াটার একটা উপায় হ’ল । ফিরে এসে ভাবলুম, আমিও বাড়ি চলে যাই ; কিন্তু দুপুরবেলা মামুদপুর থেকে একটা ছেলে কাদতে কাদতে এসে জানালে, তার মায়ের খুব অস্থখ । তাকে অস্ত্র করতে গিয়েই নিজের এই বিপদ ঘটালুম। এমন অনেক ত করেচি, আমি সাবধানও কম নই, কিন্তু এবার দুর্ভাগ্য এমনি যে, একার চাকায় বুড়ো আঙুলের পিছনটা যে ঘসে গিয়েছিল, সেটা কেবল চোখে পড়ল হাতের রক্ত ধুতে গিয়ে। তাড়াতাড়ি ফিরে এসে যা করবার সমস্তই করলুম, বাড়ি যাবার উপায় থাকলে আমি চলেই যেতুম, কিছুতেই থাকতুম না, কিন্তু কোন উপায় করতে পারলুম না। কাল রাত্রে জরবোধ হ’ল—এ যে কিসের জর সে যখন বুঝতে আর বাকী রইল না, তখন অনেক কষ্ট্রে, অনেক চেষ্টায় একটা লোক দিয়ে দু'জনকে দুখান চিঠি লিখে পাঠিয়েচি । অচলা অশ্র-ব্যাকুলকণ্ঠে বলিয়া উঠিল, কিন্তু এখন ত উপায় আছে, আমার ভুলিতে নিয়ে তোমাকে এখনি আমি বেরিয়ে পড়ব—আর একমিনিট থাকতে দেব না । રેલ ૭