প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


भुँईलाई किरू छूशि ? আমি হেঁটে যাবো-আমার কথা তুমি কিছুতে ভাবতে পাবে না। হেঁটে যাবে ? এতটা পথ ? তোমার পায়ে পড়ি, তুমি আর বাধা দিয়ে না, বলিতে বলিতেই অচলা কাদিয়া ८कलिठ । স্বরেশ পলকমাত্র মৌন হইয়া রহিল, তার পরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া ধীরে ধীরে ৰলিল, আচ্ছা, তাই চল । কিন্তু বোধ হয়, এর আর প্রয়োজন ছিল না । অচলা বাহিরে আসিয়া দেখিল, গাছতলায় বসিয়া রঘুবীর নীরবে চানা-ভাজা চৰ্ব্বণ করিতেছে। কহিল, রঘুবীর, বাবুর বড় অস্থখ, তাকে এক্ষুনি নিয়ে যেতে হবে। ডুলিওয়ালাদের বল, তারা যত টাকা চায়, আমি তার চেয়ে বেশি দেব-কিন্তু আর একমিনিটও দেরি নয় । প্রভূ-পত্নীর ব্যাকুল কণ্ঠস্বরে রঘুবীর চমকাইয়া উঠিয়া দাড়াইল, কহিল, কিন্তু তারা ত দু'জনকে বইতে পারবে না মাইজী ! না না, দু’জনকে নয়। আমি হেঁটে যাবে, কিন্তু আর এক মিনিটও দেরি চলবে না রঘুবীর, তুমি শীগগির যাও—কোথায় তারা ? রঘুবীর কহিল, ভাড়ার টাকা নিয়ে তারা দোকানে গেছে খাবার কিনতে। এক্ষনি ডেকে আনচি মাইজী, বলিয়া সে অভুক্ত চান-ভাঙ্গা গাত্রবস্ত্রের খুটে বাধিতে বাধিতে একপ্রকার ছুটিয়া চলিয়া গেল । ফিরিয়া আসিয়া অচলা স্বরেশের শিয়রে বসিল, এবং হাত দিয়া তাহার কপালের উত্তাপ অনুভব করিয়া আশঙ্কায় পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল। মূনিয়ার মা কেরোসিনের ডিবা জালিয়া অনতিদূরে মেবের উপর রাখিয়া গিয়াছিল, তার অপৰ্য্যাপ্ত ধূমে সমস্ত স্থানটা কলুষিত হইয়া উঠিতেছিল, সেইটা সরাইতে গিয়া একটা ঔষধের শিশি অচলার চোখে পড়িল জিজ্ঞাসা করিল, একি তোমার ওষুধ ? স্বরেশ বলিল, ই, আমারই । কাল নিজেই তৈরি করেছিলুম, কিন্তু খাওয়া হয়নি। দাও— কথাটা অচলাকে তীব্র আঘাত করিল, কিন্তু না খাওয়ার হেতু লইয়াও আর সে কথা বাড়াইতে ইচ্ছা করিল না । ঔষধ দিয়া শিয়রে জাসিয়া সে আবার তেমনি নীরবে উপবেশন করিল। অনেকক্ষণ হইতেই স্বরেশ মৌন হইয়াই ছিল, কিন্তু সে নিঃশকে কত বড় যাতনা সহিতেছে, ইহাই উপলব্ধি করিয়া অচলার বু কাটিতে লাগিল । - - * ፵ © »