প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাহ নিরুপায়ের মরণ মরিতে বসিয়াছে, এই কি কেবল এত বড় বিপ্লব এক ঘটাইয়াছে ? আর কি কাহারও মনের মধ্যে লুকাইয়া কোন লোভ মোহ ছিল না ? কোথাও কোন পাপ কি আর কেহ করে নাই ? - কিন্তু সহসা চিন্তাটাকে সে যেন সজোরে ঠেলিয়া ফেলিয়া একটুখানি নাড়িয়াচড়িয়া উঠিল। কে যেন দুই হাত চাপিয়া তাহার কণ্ঠরোধ করিতে বসিয়াছিল। সেই সময় স্বরেশও জল চাহিল। হেট হইয়া মুখে তাহার জল দিয়া আবার অচলা স্থির হইয়া বসিল । তাহার প্রাপ্তি নাই, ক্লাস্তি নাই, চোখ হইতে নিদ্রার আভাসটুকু পৰ্য্যস্ত যেন তিরোহিত হইয়া গিয়াছে। সেই দুটি শুষ্ক চোখ মেলিয়া আবার সে নীরব আকাশের প্রতি একদৃষ্টি তাকাইয়া রহিল। বহুদিন পূৰ্ব্বে অনেক যত্ন করিয়া যে মহাভারতখানি শেষ করিয়াছিল –আজি তাহারই শেষ সৰ্ব্বনাশ যেন তাহারই মনের মধ্যে ছায়াবাজির ন্যায় প্রবাহিত হইয়া যাইতে লাগিল। সেখানে যেন কত রক্ত চুটিতেছে, কত অঙ্গানা লোক মিলিয়া কাটা-কাটি মারা-মারি করিয়া মরিতেছে —কত শত-সহস্ৰ চিতা জলিতেছে, নিবিতেছে —তাহার ধুমে ধূমে সমস্ত স্বৰ্গ-মর্ত্য একেবারে যেন আচ্ছন্ন একাকার হইয়া গিয়াছে ! কিছুক্ষণের জন্ত স্বরেশ বোধ হয় তস্রামগ্ন হইয়া পড়িয়াছিল—তাহার সাড়া ছিল না । কিন্তু এমন করিয়া যে কতক্ষণ গেল, কি করিয়া বাহিরে যে সময় কাটিতে লাগিল, কি করিয়া যে রাত্রি প্রভাতের পথে অগ্রসর হইতেছিল, সেদিকেও অচলার চৈতন্য ছিল না। তাহার নির্মীলিত চক্ষের কোণ বহিয়া জল পড়িতেছিল, প্রস্ত হাতদুটি স্বরেশের বালিশের উপর পড়িয়া, সে একান্ত মনে বলিতেছিল, হে ঈশ্বর, আমি অনেক দুঃখ অনেক বাথ পাইয়াছি, আজ আমার সকল দুঃখ, সকল ব্যথার পরিবৰ্ত্তে একে তুমি ক্ষমা করিয়া কোলে তুলিয়া লও, আমার মা নাই, বাপ নাই, স্বামী নাই—এত বড় লজ্জা লইয়া কোথাও আমার দাড়াবার স্থান নাই। আমি কত ষে সহিয়াছি, সে ত তুমি জান-আর আমাকে বাচিতে দিয়ে না প্ৰভু ! আমাকেও তোমার কাছে টানিয়া লও ! কথাগুলি সে যে কতভাবে কতরকমে মনে মনে আবৃত্তি করিল, তাহার অবধি নাই-অশ্রুঞ্জলও যে কত ঝরিয়া পড়িল তাহারও সীমা নাই । भाहेबौ ! তখন সবেমাত্র প্রভাত হইয়াছে, অচলা চমকিয়া দেখিল, রঘুবীর কাহার যেন প্রবেশের অপেক্ষায় সদর-দরজা উন্মুক্ত করিয়া দাড়াইয়াছে। ३é७