প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंश्लोश् প্রাণ বাচাইবার নিমন্ত্রণও গ্রহণ করিল না। তিনি চলিয়া গেলে শুধু বুক চিরিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস পড়িল মাত্র। সৰ্ব্বনাশের পরিমাণ ! তাই বটে ! ভিতরে বসিয়া গাড়ির শব্দে অচলাও ইহা অমুভব করিল। কেন তিনি ভিতরে প্রবেশ করিলেন না, একটা কথা পৰ্য্যন্ত বলিয়া গেলেন না, তাহাও অত্যন্ত স্বম্পষ্ট। . এতক্ষণ স্বরেশের অনিবাৰ্য্য মৃত্যু যে ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তার উপলক্ষ স্বষ্টি করিয়া একটা অস্তরাল রচিয়াছিল, তাহাও নাই ; এইবার মহিম অত্যন্ত সম্মুখে, অত্যন্ত কাছাকাছি আসিয়া দাড়াইবে, কিন্তু আর তাহার মন কিছুতেই সাড়া দিতে চাহিল না। নিজের জন্ত লজ্জা বোধ করিতেও সে যেন ক্লাস্তিতে ভরিয়া উঠিল । মহিম আসিয়া দেখিল, সে কেরোসিনের আলোটা সম্মুখে রাখিয়া চুপ করিয়া বসিয়া আছে ; কহিল, এখন তুমি কি করবে ? আমি বলিয়া অচলা তাহার মুখের প্রতি চাহিয়া কত কি যেন ভাবিতে লাগিল ; শেষে বলিল, আমি ত ভেবে পাইনে। তুমি যা হুকুম করবে, আমি তাই করব। এই অপ্রত্যাশিত বাক্য ও ব্যবহারে মহিম বিস্মিত হইল, শক্ষিত হইল। এমন করিয়া সে একবারও চাহে নাই। এ দৃষ্টি যেমন সোজা, তেমনি স্বচ্ছ। ইহার ভিতর দিয়া তাহার বুকের অনেকখানি যেন বড় স্পষ্ট দেখা গেল। সেখানে ভয় নাই, ভরসা নাই, কামনা নাই, কল্পনা নাই—যতদূর দেখা যায়, ভবিষ্যতের আকাশ ধূ ধু করিতেছে। তাহার রঙ নাই, মূৰ্ত্তি নাই, গতি নাই, প্রকৃতি নাই—একেবারে নিৰ্ব্বিকার, একেবারে একান্ত শূন্ত । উপদ্রুত, অপমানিত, ক্ষত-বিক্ষত নারী-হৃদয়ের এই চরম বৈরাগ্যকে সে চিনিতে পারিল না। একের অভাব অপরের হৃদয়কে এমন নিঃস্ব করিয়াছে কল্পনা করিয়া তাহার সমস্ত মন তিক্ততার পূর্ণ হইয়া গেল। কিন্তু নিজের দুঃখ দিয়া জগতের দুঃখের ভার সে কোনদিন বাড়াইতে চাহে না, তাই আপনাকে আপনার মধ্যে ধরিয়া রাখাই তাহার চিরদিনের অভ্যাস। পাছে এই বক্ষ-ভরা তিক্ততা তাহার কণ্ঠস্বরে উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠে, এই ভয়ে সে অন্তর চক্ষু ফিরাইয়া লইয়া কিছুক্ষণ মৌন হইয়া রহিল ; তার পরে সহজ গলায় বলিল, আমি কেন তোমাকে হুকুম দেব অচলা, আর তুমিই ব্য তা শুনতে বাধ্য হবে কিসের জন্ত ? কিন্তু তুমি ছাড়া আর যে কেউ নাই, কেউ ত আমার সঙ্গে জার কথা কবে না ; বলিয়া অচলা তেমনি একভাবেই মহিমের মুখের দিকে তাকাইয়া রহিল। মহিম কহিল, এই কি আমার কাছে তুমি প্রত্যাশা কর । বোধ হয় প্রশ্নটা অচলার কানেই গেল না। সে নিজের কথার রেশ ধরিয়া যেন আপনাকে আপনিই বলিতে লাগিল, তোমাকে হারিয়ে পৰ্য্যন্থ ভগবানকে আমি &t;9