প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ৰিস্ফুর ছেলে বিষ্ণু রুক্ষশ্বরে বলিল, ধরেচি তুই কাজ করগে যা। কদম দ্বিরুক্তি না করিয়া উঠিয়া গিয়া বাচিল । তখন বিন্দু অন্নপূর্ণাকে কহিল, বড়গিনীর পরামর্শদাতাগুলি বেশ! বঠ ঠাকুরকে বলে ওদের মাইনে বাড়িয়ে দেওয়া উচিত । বিলু খুশী থাকিলে অন্নপূর্ণাকে দিদি বলিত, রাগিলে বড়গিনী বলিত। অন্নপূর্ণ জলিয়া উঠিয়া বলিলেন, যা না, বল গে ন-বঠ ঠাকুর আমার মাথাটা কেটে নেবে। আর বঠ ঠাকুরও তেমনি । সে তখনি শুরু করবে, কি মা ! কি বলচ মা, ঠিক কথা মা ! ঢের ঢের বরাত দেখেচি ছোটবোঁ, কিন্তু তোর মত দেখিনি। কি কপাল নিয়েই জন্মেছিলি, মাইরি, বাড়িম্বন্ধ সবাই যেন ভয়ে জড়সড় । বিন্দুর রাগ হয়েছিল বটে, অন্নপূর্ণার কথার ভঙ্গিতে সে হাসিয়া ফেলিল। বলিল, কৈ, তুমি ত ভয় কর না ! - অন্নপূর্ণ বলিলেন, করিনে আবার ! তোমার রণচণ্ডী মূৰ্ত্তি দেখলে যার বুকের রক্ত জল হয়ে না যায় সে এখনো মায়ের পেটে আছে! কিন্তু অত রাগ ভাল । নয় ছোটবেী ! এখনো কি ছোটটি আছিল ? ছেলে হলে যে এতদিন চার-পাচ ছেলের মা হতিসু , আর তোকেই বা দোষ দেব কি, ঐ বুড়ো মিনসেই আদর দিয়ে তোর মাথা খেলে । * বিন্দু বলিল, কপাল নিয়ে জন্মেছিলুম দিদি, সে কথা তোমার মানি ; ধন-দৌলত আদর-আহলাদ অনেকেই পায়, সেটা বেশি কথা নয়, কিন্তু এমন দেবতার মত ভাগুর পেতে অনেক জন্ম-জন্মাস্তরের তপস্যার ফল থাকা চাই। আমার অদৃষ্ট দিদি, তুমি হিংসে করে কি করবে ? কিন্তু আদর দিয়ে তিনি ত মাথা খাননি, আদর দিয়ে যদি কেউ মাথা খেয়ে থাকে ত সে তুমি । অন্নপূর্ণ হাত নাড়িয়া বলিলেন, আমি ? সে-কথা কারো বলবার জো নেই। আমার শাসন কড়া শাসন কিন্তু কি করব, আমার কপাল মন্দ, কেউ আমাকে ভয় করে না—দাসী-চাকরগুলো পৰ্য্যন্ত মুখের সামনে দাড়িয়ে সমানে ঝগড়া করে, যেন তারাই মনিব, আমি দাসী-বাদী ! আমি তাই সয়ে থাকি, অন্ত কেউ হলে— তাহার এই উল্টা-পাণ্টা কথায় বিন্দু খিল খিল করিয়া হাসিয়া ফেলিল। বলিল, দিদি, তুমি সত্য-যুগের মহিষ, কেন মরতে একালে এসে জয়েছিলে । কই, আমার সঙ্গে ত কেউ ঝগড়া করে না ? বলিয়া সহসা স্বমুখে আসিয়া হাটু গাড়িয়া বসিয়া জুই বাহ দিয়া অন্নপূর্ণার গলা জড়াইয়া ধরির বলিল, একটা গল্প বল দিদি। অন্নপূর্ণ রাগিয়া ৰলিলেন, বা সরে যা। কদম ছটিয়া আসিয়া বলিল, দিদি, অমূল্যধন জাতিতে হাত কেটে ফেলে रँगणटछ । ኧፃo on-st