প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 ইহাদের পিসতুত বোন এলোকেশীর অবস্থা ভাল ছিল না। যাদব র্তাহাকে অর্থ-সাহায্য করিয়া পাঠাইতেন। কিছুদিন হইতে তিনি তাহার পুত্র নরেনকে এইখানে রাখিয়া লেখা-পড়া শিখাইবার ইচ্ছা জানাইয়া চিঠিপত্র লিখিতেছিলেন,এমন সময় তিনি ছেলে লইয়া উত্তরপাড়া হইতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন । তাহার স্বামী প্রিয়নাথ সেখানে কি করিতেন, তাহা ঠিক করিয়া কেহই বলিতে পারে না, দিনদুয়ের মধ্যে তিনিও আসিয়া পড়িলেন। নরেনের বয়স ষোল-সতের । সে চওড়া পাড়ের কাপড় ফের দিয়া পরিত এবং দিনের মধে আট-দশবার চুল আচড়াইত । টেরিটা তাহার বাস্তবিক একটা দেখিবার বস্তু ছিল। আজ সন্ধ্যার পর রান্নাঘরের বারান্দায় সকলে একত্রে বসিয়াছিলেন এবং এলোকেশী র্তাহার পুত্রের অসাধারণ রূপ-গুণের পরিচয় দিতেছিলেন । x বিন্দু জিজ্ঞাস করিল, কোন ক্লাসে পড় তুমি ? নরেন বলল, ফোর্থ ক্লাসে। রয়েল রিডার, গ্রামার, জিয়োগ্রাফি, এরিথমেটিক আরো কত কি, ডেসিমল টেসিমেল-ও-সব তুমি বুঝবে না মামী। এলোকেশী সগৰ্ব্বে পুত্রের মুখের দিকে একবার চাহিয়া বিন্দুকে বলিলেন, সেকি এক-আধখানা বই ছোটবেী ? বইয়ের পাহাড়, কাল বইগুলো বাক্স থেকে বার করে তোমার মামীদের একবার দেখিও ত বাবা । নরেন ঘাড় নাড়িয়া বলিল, আচ্ছা দেখাব । বিন্দু বলিল, পাশ করতে এখনো ত দেরি আছে। এলোকেশী বলিলেন, দেরি কি থাকত ছোটবেী, দেরি থাকত না। এতদিন একটা কেন, চারটে পাশ করে ফেলতো। শুধু মুখপোড়া মাস্টারের জন্যই হচ্ছে না। তার সৰ্ব্বনাশ হোক, বাছাকে সে যে কি বিষ নজরেই দেখেছে, তা সেই জানে। ওকে কি তুলে দিচ্ছে ? দিচ্ছে না, হিংসে করে বছরের পর বছর একটা কেলাসেই ফেলে রেখেচে । বিন্দু বিস্থিত হইয়া কহিল, কৈ, এ রকম ত হয় না। এলোকেশী বলিলেন, হচ্চে, আবার হয় না ! মাস্টারগুলো সব একজোট হয়ে বুল চায় ; আমি গরীব-মান্বষ, ঘুষের টাকা কোথা থেকে যোগাই বল ত ? বিষ্ণু চুপ করিয়া রহিল। অন্নপূর্ণ আন্তরিক দুঃখিত হইয়া বলিলেন, এমন কৰে কি মানুষের পিছনে লাগতে আছে ? সেটা কি ভাল কাজ ? কিন্তু আমাদের Գ Պ7)