প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंश्ङ्गांश् শুধু মনে মনে একটুখানি হাসিয়া বলবে, এই লোকটা বন্ধুত্বের অতি-অভিমানে কত পণ্ডশ্রমই না করিয়াছে! ব্যর্থ আক্রোশে কত অন্তর্দাহেই না জলিয়া পুড়িয়া মরিয়াছে। রাত্রে তাহার স্বনিদ্রা হইল না। যতবার ঘুম ভাঙ্গিল, ততবারই এই সকল তিক্ত চিন্তা তাহাকে ধিক্কার দিয়া বলিয়া গেল—পরের জন্য এমন উৎকট মাথাব্যথার রোগ কবে সারিবে স্বরেশ ? সকালবেল উঠিয়া সে দিনের কাজে মন দিতে পারিল না এবং বেলা বাড়িতেনা-বাড়িতেই গাড়ি করিয়া কেদারবাবুর বাটতে আসিয়া উপস্থিত হইল। বেয়ারা জানাইল, বাবু আলিপুর আদালতে বাহির হইয়া গিয়াছেন—ফিরতে তিন-চার ঘণ্টা দেরি হইতেও পারে । স্বরেশ ফিরিতে উষ্ঠত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, দুজনেই বেরিয়ে গেছেন ? প্রশ্নটা বেয়ারা বুঝিতে পারিল না। ঘাড় নাড়িয়া কহিল, সে ত আমি জানিনে বাবু। স্বরেশ মুস্কিলে পড়িল । গৃহস্বামীর অবর্তমানে তাহার যুবতী কন্যার সম্বন্ধে কোন প্রকার প্রশ্ন করা বাহ্ম-পরিবারের মধ্যে শিষ্টতা-বিরুদ্ধ কি না, তাহ স্থির করিতে পারিল না, অথচ এই কন্যাটিকেই তাহার একমাত্র প্রয়োজন। চিন্তা করিয়া কহিল, তোমার বাবুর ফিরতে এত দেরি নাও হতে পারে ত? আমি এক-আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করেই দেখি । বেয়ারা মুরেশকে বসিবার ঘরে আনিয়া বসাইয়া কহিল, দিদিঠাকরুণ বাড়ি আছেন, র্তাকে খবর দেব কি ? বলিয়া উত্তরের জন্য চাহিয়া রহিল । অচলা এই ভদ্রলোকটির স্বমুখে যে বাহির হন তাহা সে কালই দেখিয়াছিল। স্বরেশ অস্তরের আগ্রহাতিশয্য প্রাণপণে নিবারণ করা নিস্পৃহভাবে কহিল, তাকে আবার খবর দেবে ? আচ্ছা দাও, ততক্ষণ না হয় তার সঙ্গে দুটো কথা কই । বেয়ারা চলিয়া গেল এবং অনতিকাল পরেই অচলা পাশ্বের দরজার পর্দা সরাইয়া প্রবেশ করিল। স্কুরেশ উঠিয়া দাড়াইয়া কহিল, মহিম যে বাড়ি চলে গেল। এত করে বললুম আপনার সঙ্গে একবার দেখা করে যেতে—কিন্তু কোনমতে কথা শুনলে না, এমন একটা— অচলার মুখ মুহূর্তের জন্ত সাদা হইয়া গেল। কিন্তু নমস্কার করিয়া একটা চোঁকিতে উপবেশন করিয়া মৃদুকণ্ঠে কহিল, যাওয়া বোধকরি খুব বেশি দরকার, বাড়িতে কারও অস্থখ-বিমুখ করেনি ত? ૨૪