প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/২৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিন্দুর ছেলে খাৰু গে, না হয় ঐ বৌটিকে বিদেয় কর, আমি আর রাখতে পারব না, আজ তা স্পষ্ট বলে গেলুম, বলিয়া চলিয়া গেলেন। মাধব আশ্চৰ্য্য হইয়া জিজ্ঞাস করিল, ব্যাপার কি ? বিন্দু বলিল, জানিনে, বড়গিল্পী বলেচে, দাও আমাদের বিদেয় করে। মাধব আর কিছু বলিল না। টেবিলের উপর হইতে খবরের কাগজটা তুলিয়া লইয়া বাহিরে চলিয়া গেল । ঠাকুরঝি দেখতে বোকার মতন ছিলেন, কিন্তু সেটা ভুল। তিনি যেই দেখিলেন, নিঃসস্তান ছোটবৌয়ের অনেক টাকা, তিনি তখনি সেই দিকে চলিলেন এবং প্রতি রাত্রে স্বামী প্রিয়নাথকে একবার করিয়া ভংসেনা করিতে লাগিলেন, তোমার জন্তই আমার সব গেল। তোমার কাছে মিছামিছি পড়ে না থেকে এখানে থাকলে আজ আমি রাজার মা। আমার সোনার চাদ ফেলে কি আর ঐ কাল ভূতের মত ছেলেটাকে ছোটবেী—, বলিয়া একটা সুদীর্ঘ নিশ্বাসের দ্বারা ঐ কাল ভূতের সমস্ত পরমায়ুটা নিঃশবে উড়াইয়া দিয়া গরীবের ভগবান আছেন বলিয়া উপসংহাব করিয়া চুপ করিয়া শুইতেন । প্রিয়নাথও মনে মনে নিজের বোকামীর জন্ত অমুতাপ করিতে করিতে ঘুমাইয়া পড়িতেন। এমনি করিয়া এই দম্পতিটির দিন কাটিতেছিল এবং ছোটবেীর প্রতি ঠাকুরবির স্নেহ-প্রীতি বস্তার মত ফাপিয়া ফুলিয়া উঠিতেছিল। আজ দুপুরবেল তিনি বলিতেছিলেন, অমন মেঘের মত চুল ছোটবোঁ, কিন্তু কোনদিন বাধতে দেখলুম না। আজ জমিদারের বাড়ির মেয়ের বেড়াতে আসবে, এস মাথাটা বেঁধে দিই। বিন্দু বলিল, না ঠাকুরবি, আমি মাথায় কাপড় রাখতে পারিনে, ছেলে বড় হয়েচে, দেখতে পাবে। ঠাকুরবি অবাক হইয়া বলিলেন, ও আবার কি কথা ছোটবোঁ ? ছেলে বড় বলে এ’স্ত্রী-মানুষ চুল বাধবে না? আমার নরেন্দ্রনাথ ত শহুরের মুখে চাই দিয়ে আরো ছ'মাস বছরেকের বড়, তাই বলে কি আমি মাথা-বাধা ছেড়ে দেব। বিন্দু বলিল, তুমি ছাড়বে কেন ঠাকুরবি, নরেন বরাবর দেখে আসছে, ওর কথা আলাদা ; কিন্তু অমূল্য হঠাৎ আজ আমার মাথায় খোপা দেখলে স্থা করে চেয়ে থাকবে। হয়ত চেঁচামেচি করবে, না কি করবে—ছি ছি, সে ভারি লঙ্কার কথা হবে। २४७